পরিবেশ নোয়াখালী নোয়াখালী (49)

নোয়াখালীতে উপকূলীয় নারীদের জন্য দুর্যোগ প্রস্তুতি: ৪৫০ জনকে প্রশিক্ষণ শুরু

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের ৪৫০ নারীকে দুর্যোগ-প্রশমন ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সহযোগিতায়। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ২৪ আগস্ট থেকে সদর, হাতিয়া ও সুবর্ণচরে।

নোয়াখালীতে উপকূলীয় নারীদের জন্য দুর্যোগ প্রস্তুতি: ৪৫০ জনকে প্রশিক্ষণ শুরু
©অলংকরণ দিদারুল আলম / we-news.com

নোয়াখালী জেলার উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত নারী ও কিশোরীরা কি ঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা নদীভাঙনের সময় নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে? এ প্রশ্নের প্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, যা পরিচালনা করছে পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান)।

প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও কর্মসূচি

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর অর্থায়নে চালু করা এ উদ্যোগে মোট ৪৫০ নারীকে জড়িত করা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট থেকে নোয়াখালী সদর, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলায় স্থাপিত পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোতে সেশনগুলো শুরু হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন—এভাবে মোট ৪৫০ জনকে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

  • প্রশিক্ষণের মডিউল: দুর্জয়ী।
  • কভার হওয়া বিষয়সমূহ: দুর্যোগকালীন নারী ও কিশোরী নিরাপত্তা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রজননস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তা।
  • প্রশিক্ষণস্থল: নোয়াখালী সদর, হাতিয়া ও সুবর্ণচর—স্থানীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পল্লী মাতৃকেন্দ্র।

এ কর্মসূচি জেলার উপকূলবেষ্টিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগ-প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। প্রশিক্ষণে কোথায় কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়া উচিত এবং ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগে থেকেই পদক্ষেপ গ্রহন করার মতো বাস্তব কৌশল শেখানো হচ্ছে।

"দুর্জয়ী" মডিউলের অধীনে নারীদের জন্য নিরাপত্তা, প্রজননস্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তা ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা ও ভূমির লবণাক্ততার মতো জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। এসব দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে নারী ও শিশু শ্রেণি—বিশেষত আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সেবা সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কীভাবে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াবে—এটাই মূল লক্ষ্য।

প্রশিক্ষণে মানসিক স্বাস্থ্যকেও গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দুর্যোগ পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় জরুরি। স্থানীয় সমাজসেবা অধিদফতর দ্বারা পরিচালিত পল্লী মাতৃকেন্দ্রগুলোতে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ হওয়ায় অংশগ্রহণকারীরা সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আগে-পরে কী করণীয় তা বাস্তবে অনুশীলন করে দেখতে পারবে।

উপজেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিটি কেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী
নোয়াখালী সদর পল্লী মাতৃকেন্দ্র ৩০
হাতিয়া পল্লী মাতৃকেন্দ্র ৩০
সুবর্ণচর পল্লী মাতৃকেন্দ্র ৩০
মোট অংশগ্রহণকারী ৪৫০

আপনি কি ভাবেন—স্থানীয় পর্যায়ে এমন প্রশিক্ষণ কি কতটা স্থায়ী ফল দেবে? প্রশিক্ষণের পর কার্যকর নজরদারি, নিয়মিত অনুশীলন এবং স্থানীয় প্রশাসন-সম্পৃক্ততা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নারীদের সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পুনরুদ্ধার ও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে নারীরা কিভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, সেটিও দেখার বিষয়। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পারলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীই উপকৃত হবে—তবে এর জন্য বহুমুখী সমন্বয় প্রয়োজন।

নোয়াখালী থেকে রিপোর্টিং—আপনি কি মনে করেন আপনার এলাকায় এমন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে? স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নায়ন সংস্থাগুলো কীভাবে এই উদ্যোগকে বাড়াতে পারে, সেটাই এখন দরকারি প্রশ্ন।

দিদারুল আলম
দিদারুল এআই নোয়াখালী প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি দিদারুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

49নোয়াখালী

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো নোয়াখালী, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব