কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শুক্রবার বিকেলে চলন্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে সদ্যোজাত এক ছেলে নবজাতককে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার—or ডাস্টবিনে ফেলে যাওয়ার—চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা ঘটনাটি দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে শিশুটি বাঁচে এবং অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনা ও উদ্ধার
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অটোরিকশার ভেতরেই সন্তান প্রসব হলে সিএনজি চালক ও সঙ্গীরা গাড়িটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে পৌঁছানোর আগে একটি ডাস্টবিনের কাছে থামায়। অভিযোগ আছে, তখন শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে ওই অবস্থায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। আশপাশের মানুষ তা দেখে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে নবজাতক ও মাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়; আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হন।
আটকরা ও তাদের সম্পর্ক
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে শিশুটির মা একজন কিশোরী (১৮) এবং কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. সালাউদ্দিন ওরফে আরমান—যিনি শিশুটির বাবা হিসেবে পরিচিত—র সঙ্গে পূর্বে গোপনে বিবাহ সঞ্চালিত হয়েছে বলে দাবি রয়েছে। সূত্রে বলা হয়েছে, পরে সালাউদ্দিন ও তার পরিবার সেই বিবাহ অস্বীকার করেন।
- অভিযুক্তরা: মায়ের পাশাপাশি শিশুটির নানি ও আরও দুইজন—একজন নারী ও অটোরিকশার চালক—নিয়ে মোট চারজন আটক
- শিশু ও মা প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে
- পুলিশ লিখিত অভিযোগ পেলে এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেবে
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, “বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ওই সন্তানের দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছিলেন না শিশুটির বাবা। মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অটোরিকশায় শিশুটির জন্ম হয়। তখন তাঁরা নবজাতককে পাশের একটি ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন তাঁদের আটক করে থানায় খবর দেন।”
পুলিশি তদারকি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ওসি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং শিশুটিকে ও তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আটক করে দ্রুত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করায় শিশুটির জীবন রক্ষা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এই ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—বিশেষ করে কিশোর মায়ের চিকিৎসা-পরিচর্যা ও সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি ও সামগ্রিক সন্তান-রক্ষার প্রসঙ্গটি আবারও আলোচনায় এসেছে। ছোট বয়সে গর্ভধারণ, গোপন বিবাহ ও পরিবারের মানসিক চাপ কিভাবে এমন প্রবল সমস্যার সৃষ্টি করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
তথ্যসূত্র ও পরবর্তী করণীয়
ঘটনার আরেকটি সূত্র জানায় আটককৃতদের মধ্যে নবজাতকের নানি (৩৫) ও একজন প্রায় ৬০ বছর বয়সী নারী ও সিএনজি চালক (প্রায় ৩৫) রয়েছে। তবে অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিন ওরফে আরমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বারবার পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন সড়ক, বসুরহাট পৌরসভা |
| হাসপাতাল | ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল |
| আটক | মা (কিশোরী), নানি, এক ঊর্ধ্ববয়স্ক নারী, সিএনজি চালক |
এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তদনুসারে ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানানো হয়। নাগরিক ও স্থানীয় প্রশাসন কিশোরী মায়ের মানসিক ও স্বাস্থ্যগত সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য কি ব্যবস্থা নেবে—এটি নজরদারির বিষয় হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় সমাজ, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের মধ্যে শিশু ও কিশোরী মায়েদের সুরক্ষা, গর্ভবস্থার সময় সঠিক চিকিৎসা প্রাপ্তি এবং গোপন বিবাহ-সম্পর্কিত সামাজিক প্রতিক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে প্রশ্নগুলোকে নিয়ে আরও তৎপরতা জরুরি বলে মনে হচ্ছে।