জেলার বৃহত্তর অংশে বিদ্যুৎঘাটতি, উৎপাদন ও সেচে প্রভাব
নওগাঁ জেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম থাকার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসবো/নেসকো) এর আওতাধীন এলাকায় দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ অনুপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
রপ্তানিমুখী নয়, খাদ্য ও কৃষি নির্ভর এই জেলার অর্থনীতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কাগজে প্রতিদিন পিক ও অফ-পিক সময়ে জেলার মোট চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট, কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না হওয়ার কারণে শিল্প ও কৃষি কার্যক্রমে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কারখানা ও চালকলের উৎপাদন কমেছে
জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭০০টির বেশি চালকল রয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং যারা ডিজেল জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের উৎপাদনখরচ বেড়েছে।
- ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিল (সুলতানপুর): গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না; মালিক দ্বিজেন ঘোষ বলেন, একদিনে ৫–৬ বার লোডশেডিং হয়েছে এবং ডিজেল খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
- নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিল (বিসিক পল্লী): ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৪–৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে, ফলে তাদের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
- ছোট-বড় খাদ্যপণ্য ও প্লাস্টিকসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানও জয়েন্ট প্রভাব অনুভব করছে; কিছু সময় বাধ্য হয়ে গ্যাসোলিন-জেনারেটর চালাতে হচ্ছে যা খরচ বাড়াচ্ছে।
“লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে… বাধ্য হয়ে ডিজেল দিয়ে মেশিন চালাতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে,”
এমন মন্তব্য করেছেন ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক দ্বিজেন ঘোষ।
নেসকো-বিভাগ ও এলাকায় প্রভাবিত স্থানগুলো
নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌর এলাকা, বদলগাছী ও পত্নীতলার কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নেসকো। জেলার বাকি ১১টি উপজেলার বিদ্যুৎ যোগান দেন নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। লোডশেডিংয়ের তীব্রতা একইভাবে না হলেও সামগ্রিকভাবে টানা অনির্দিষ্টকালের বিদ্যুৎকোর্স সমস্যায় ফেলে চলতি সেচ ও খাতে মুনাফা-ভিত্তিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হচ্ছে।
নওগাঁ শহরের কাজীর মোড়ের পঞ্চভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক জানান, আগস্টের শুরু থেকেই তুলনামূলকভাবে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং বেড়েছে এবং তাদের সারাদিনের রুটিন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
| বিষয় | উল্লেখ্য |
|---|---|
| দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা (পিক/অফ-পিক) | ৯৫ মেগাওয়াট (গড়ে) |
| সরবরাহ ঘাটতি | ৩০–৪০% |
| চালকলের সংখ্যা (আনুমানিক) | ৭০০+ |
পরিণতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সীমিত করছে, যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে কর্মসংস্থান, পণ্যের সরবরাহ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। কৃষিকেন্দ্রিক সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে আমন প্যাকিং ও ধান প্রক্রিয়াকরণ চেইনে বিলম্ব দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় কারখানাগুলো জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন বজায় রাখলেও চালান খরচ বাড়ায় মুনাফা কমে যাচ্ছে এবং ছোট-মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জেনারেটর চালু রাখা সব সময় সম্ভব নয়।
সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে নিয়মিত কোনো প্রতিশ্রুতি বা স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা রিপোর্টে পাওয়া যায়নি। তবে লোডশেডিং অবস্থা দ্রুত সমাধান না হলে জেলার শিল্প ও কৃষি বেস লাভবান খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।