নওগাঁজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির ফলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) আওতাধীন এলাকার গ্রাম-বিশেষত শহরসংলগ্ন বাহিরের অংশগুলোতে দিনে ৪–৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
উৎপাদন ও খরচে সরাসরি প্রভাব
লোডশেডিংয়ের ফলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় খরচ বাড়ছে। নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুর এলাকায় অবস্থিত ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক দ্বিজেন ঘোষ জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন চালানোর জন্য ডিজেল নেয়া হচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে এবং বাধ্য হয়ে অনেক সময় মেশিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
নওগাঁ বিসিক পল্লীতে অবস্থিত নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিলের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি বলেন, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে সাধারণত ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। এ পরিস্থিতিতে তাদের কারখানার উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটর চালানোর সামর্থ্য থাকলেও ডিজেল খরচ কমাতে সব সময় জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সেচ ও পরিষেবায় বিঘ্ন
লোডশেডিং শুধু শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, কৃষি সেচও ব্যাহত হচ্ছে। জেলার কৃষকরা জানান, বিশেষ করে ধানরোপণের সময় সেচের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বিদ্যুৎ অনুপস্থিতি সেচযন্ত্র চালাতে ব্যাবধান সৃষ্টি করেছে। সূত্রগুলো বলছে, নওগাঁ জেলাটি ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ — এ প্রেক্ষাপটে সেচ ব্যাহত হলে ফসলের উৎপাদনশীলতায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে।
- জেলায় বর্তমানে 700-এর অধিক চালকল কারখানা রয়েছে।
- জেলার বিভিন্ন ছোট-বড় শিল্প: খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি বিদ্যুৎভিত্তিক।
- লোডশেডিংয়ের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেলজেনারেটর ব্যবহার করলেও তা সব সময় চালানো সম্ভব হচ্ছে না; ফলে উৎপাদন কমে এবং খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
দ্বিজেন ঘোষ: “লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে… ডিজেল দিয়ে মেশিন চালানোর ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে।”
স্থানীয় ব্যবসা ও জনজীবনে অস্থিরতা
শহরের ব্যবসায়ী ও ছোট হোটেলগুলোও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত। কাজীর মোড় এলাকার পঞ্চভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক বলেন, আগস্টের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ অনিয়মিত হচ্ছে; প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচ-ছয় বার বিদ্যুৎ আসে-যায়। গ্রামে পরিস্থিতি আরও খারাপ — গ্রামাঞ্চলের কিছু এলাকায় দিনে-রাতে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এর ফলে গ্রামীণ ও শহুরে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-ব্যবসায়ী অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রচণ্ড অনটন দেখা দিচ্ছে।
| বিষয় | অবস্থা (সূত্র) |
|---|---|
| দৈনিক লোডশেডিং সময় | ৪–৬ ঘণ্টা |
| প্রধান প্রভাবিত ক্ষেত্র | চালকল, ক্ষুদ্র শিল্প, সেচ, মুদি-রেস্তোরাঁ |
| কিছু কারখানার উৎপাদন হ্রাস | প্রায় ৩০ শতাংশ (প্রতিনিধির কথায়) |
নেসকো ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়ার তথ্য রিপোর্টে পাওয়া যায়নি। পতিত ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে স্থানীয় কারখানা মালিক ও ব্যবস্থাপকেরা দাবী করছেন দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে নিরন্তরভাবে উৎপাদন ও জীবিকা ব্যাহত হবে।
লোডশেডিং সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া ন্যূনতম আগামি সময়ে নওগাঁর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কৃষি-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।