পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ মোড় এলাকায় দীর্ঘ ও ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুত্ বিল সংক্রান্ত বিরূপতার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পাবনা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখেন।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘরের কাজকর্ম এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকরা দাবি করেন, মিটার রিডিং ও বিলের মধ্যে মিল নেই — ফলে অনেক মাসে বেঈমানি বিলও দিতে হচ্ছে।
- অবরুদ্ধ রিডারের নাম: আইনুল হোসেন, দাশুড়িয়া জোনাল অফিস, মিটার রিডার।
- স্থান ও সময়: চরগড়গড়ি আলহাজ মোড়, মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল (প্রায় চার ঘণ্টা)।
- প্রধান দাবি: নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মিটারের সঠিক রিডিং নিশ্চিত করা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুপভান খাতুন জানান, লোডশেডিং চলাকালীন মিটার রিডার রিডিং নিতে গেলে গ্রাহকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে আটক করেন; পরে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য
ভুক্তভোগী গ্রাহক আকমল প্রামাণিক অভিযোগ করছেন লোডশেডিংয়ের সঙ্গে ভুল রিডিং ও অতিরিক্ত বিল তাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তিনি বলেন:
“বেশ কিছুদিন ধরে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। এর মধ্যে ভুল রিডিং ও অতিরিক্ত বিলের কারণে অনেক গ্রাহক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।”
অবরুদ্ধ মিটার রিডার আইনুল হোসেনও পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংজনিত কষ্ট আছে, কিন্তু এই সমস্যা শুধু ওই গ্রাম নয়—এটি জাতীয় সমস্যা; ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আপাতত বিল লেখা বন্ধ রাখা হয়েছে। (মন্তব্যটির অব্যক্ত অংশ সূত্রে উপস্থাপিত)।
প্রভাব ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় জনৈক ক্রোধ গড়ে ওঠে। তারা চায়:
- বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করতে নির্দিষ্ট সময়সূচী ঘোষণা।
- মিটার রিডিং ও বিলিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান।
- অপর্যাপ্ত সরবরাহ বা ভুল রিডিংয়ের কারণে যদি অতিরিক্ত বিল ধার্য হয়, তা দ্রুত পুনঃপরীক্ষা ও সমন্বয়ের ব্যবস্থা।
পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ বা স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাখ্যা প্রতিবেদনের সময় মেলেনি; রিডারের আটকে রাখার পর তারা ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করা হয় বলে খোঁজ-তথ্য থেকে জানা গেছে।
পূর্বপ্রেক্ষিত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য
গ্রামের দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা ও বিদ্যালয় কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীর সন্ধ্যা পড়াশোনা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি এবং পরিবারের দৈনন্দিন কাজ থমকে যাওয়া—এসবই স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবরুদ্ধ ব্যক্তির নাম | আইনুল হোসেন |
| অবস্থান | চরগড়গড়ি, সাহাপুর ইউনিয়ন, ঈশ্বরদী |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার (১১ আগস্ট), দুপুর থেকে বিকেল (প্রায় ৪ ঘণ্টা) |
কী করা যেতে পারে — স্থানীয়দের প্রত্যাশা
স্থানীয়রা দ্রুত সঠিক রিডিং প্রদানের জন্য মিটার পরীক্ষণ, বিল পুনর্মূল্যায়ন ও লোডশেডিং নির্ধারণের স্বচ্ছ সময়সূচী চাইছে। এছাড়া তারা পুনরাবৃত্তি হলে আরও তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে পরিষ্কার যে—গ্রাম্য বিদ্যুৎ পরিষেবায় নিয়মিত অচলাবস্থা ও বিল সংক্রান্ত অনিয়ম থাকলে তা সহজেই জনদূর্ভোগে পরিণত হতে পারে এবং প্রশাসনিক সাড়া না দিলে শান্তিপূর্ণ প্রতিকার থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি পর্যন্ত পৌঁছতে সময় লাগে না। সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়রা দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।