কুষ্টিয়া শহরে মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের একটি ঝাড়ু মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিল ও সমাবেশে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার কয়েকটি বক্তব্যকে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
মিছিলের পথ ও অংশগ্রহণ
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটায় কুষ্টিয়া শহরের পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং শেষ হয় পাঁচ রাস্তার মোড়ের শহীদ চত্বরে। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন মহিলা দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। মিছিলে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া শহর মহিলা দলের সভানেত্রী শিল্পী।
- সময়সূচি: মঙ্গলবার, দুপুর ১টা — পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু।
- শেষ বিন্দু: পাঁচ রাস্তার মোড়, শহীদ চত্বর — সংক্ষিপ্ত সমাবেশ।
- প্রধান বক্তব্য রাখেন: মহিলা দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ও প্রতিনিধিরা।
প্রতিবাদের কারণ ও দাবি
মিছিলটির মূল কারণ হিসেবে organisers মহিলা নেতারা জানান, মুফতি আমির হামজা তাদের এক নেত্রী ও মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। ওই মন্তব্যকে তাঁরা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি এবং ঘটনার দমনে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
মিছিলে উপস্থিতরা সরকারের সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমুক্ত তদন্তের আভাস দেন। সাধারণ ব্যবসায়ী ও যোগ্য আবেদনকারী যাতে সমান সুযোগ পান—এটাই তাদের দাবি।
সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
স্থানীয় পর্যায়ের এক প্রশাসনিক সভা ও সারের ডিলার নিয়োগকে ঘিরে গত কয়েকদিনে রাজনীতিতে চাপ বেড়েছে। মুফতি আমির হামজা ওই প্রসঙ্গে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে কথা বলেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, বর্তমান কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে জনগণ ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন—
“আমি ১ লাখ ৮৩ হাজার ভোটে নির্বাচিত এমপি। অথচ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকাণ্ডে আমাদের মাইনাস করা হচ্ছে।”
তার একই বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ইউনিয়ন পর্যায়ে সারের ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত মিটিংয়ে নির্বাচিত এমপিদের বাদ দিয়ে কোনো পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ড বা বহির্ভূত লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না।
অন্য দলের প্রতিক্রিয়া
এই প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন যে, সারের ডিলার নিয়োগ কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা হিসেবে থাকার কথা থাকলেও সেখানে দলীয়করণ হয়েছে। তিনি বলেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে নিয়োগে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন বলেন, প্রশাসন সারের ডিলার নিয়োগে কাদেরকে বিবেচনা করা হবে তা তারা জানে না; যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নিয়ম মেনে নিয়োগ হবে। একই সঙ্গে তিনি নিন্দা জানিয়ে বলেন একজন নারী সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা উচিত হয়নি এবং এজন্য মহিলা দলের প্রতিবাদ উচিৎ ছিল।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় রাজনৈতিক গুরুত্ব
স্থানীয় রাজনীতির এই ঘটনার সঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা সংযুক্ত থাকায় কোনও রকম রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সারের ডিলার নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাবশালী বিষয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে সাধারণ কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধা متاثر হয়।
| ইস্যু | প্রাসঙ্গিক পক্ষ |
|---|---|
| কটূক্তির অভিযোগ | মুফতি আমির হামজা বনাম ফরিদা ইয়াসমিন |
| প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা | স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধির অভিযোগ |
| প্রতিবাদ | জাতীয়তাবাদী মহিলা দল |
মিছিলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, তারা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন এবং প্রয়োজন হলে বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়া হবে। প্রশাসনের দিকে থেকে কীভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে—তাও এখন দেখার বিষয়।
কার্যত: কুষ্টিয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশাসন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা ও সারের ডিলার নিয়োগ ইস্যু মিলিতভাবে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।