পরিদর্শন ও জনসচেতনতা
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নে গতকাল জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ মাঠপর্যায়ে এক দীর্ঘ দিনব্যাপী পরিদর্শন করেন। তিনি উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ভূরুঙ্গামারী থানা, তিলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ ও ডিজিটাল সেন্টার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।
শিক্ষা ও শিশু উন্নয়ন: ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকের ভূমিকায় জোর
তিলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তার বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতিরূপে বলা হয়েছে—
“শিশুদের শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। একটি সুস্থ ও মানসিকভাবে বিকশিত শিশু কখনোই পথ হারায় না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বিত ভূমিকা সবচেয়ে জরুরি।”
সভায় জেলা প্রশাসক অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ছাড়পত্র না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন। এই বক্তব্য ছিল মূলত শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমানোর লক্ষ্যে গ্রাম পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা জরুরি হওয়ার ইঙ্গিত।
সার্বজনীন সেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণ
পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক বিভিন্ন দপ্তরের সেবা প্রসেস, সেবা প্রদানকারীদের কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাচ্ছে—সেগুলো মনিটর করেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে তালগাছের চারা রোপণের উদ্বোধন করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে গণচেতনামঞ্চ
তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এক জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। জেলা প্রশাসক সভায় বলেন সামাজিক ব্যাধি—বিশেষত বাল্যবিবাহ ও মাদক—সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করছে এবং এগুলো প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে; একই সঙ্গে সামাজিক আন্দোলন গঠন করাও জরুরি।
- পরিদর্শিত স্থানসমূহ: উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, থানা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, ডিজিটাল সেন্টার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়।
- প্রধান বক্তব্য: শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; সহশিক্ষা কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
- সামাজিক বিষয়: মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক—এগুলি প্রতিরোধে জনসচেতনতা জরুরি।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক উপস্থিতি
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম প্রশাসনের সরাসরি নজরদারিকে স্বাগত জানান এবং জানান, জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। পরিদর্শনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
| কার্যক্রম | লক্ষ্য/উদ্দেশ্য |
|---|---|
| বিদ্যালয় পরিদর্শন ও মতবিনিময় | শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ, অভিভাবক সচেতনতা |
| দাপ্তরিক অফিস মনিটরিং | জনসেবা নিশ্চিতকরণ, সেবা মান উন্নয়ন |
| তালগাছ রোপণ | পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় পথের ছায়া প্রদান |
| জনসচেতনতা সভা | মাদক, বাল্যবিবাহ ও অন্য সামাজিক দুর্যোগ প্রতিরোধ |
পরিদর্শন পরিচালনার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন সরাসরি মাঠ পর্যায়ে সেবা ও সামাজিক সমস্যা নির্ণয় ও প্রতিকার অভিযানকে ত্বরান্বিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের নজরদারি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সামাজিক কুফল প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা থাকতে পারে বলে লক্ষণীয়।