কুমিল্লা সদর উপজেলার সেনানিবাস সংলগ্ন আলেখারচর আমতলী এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাত্র আধা কিলোমিটার অংশের বেহাল দশা স্থানীয়দের জন্য দীর্ঘদিনের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন এই করিডোরে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও আমতলী খণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত পথ দ্রুত যানজট, যানবাহনের অতিরিক্ত জ্বালানীপাচন ও যানবাহনের ক্ষতির কারণ হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
দৈনন্দিন ভোগান্তি ও আর্থিক প্রভাব
স্থানীয়রা বলছেন ভেঙে পড়ে থাকা সড়কের কারণে প্রতিদিন শতশত যাত্রী ও মালবাহী গাড়ির সময় বন্ধিয়ে যাচ্ছে। সড়কটির পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়া, মেরামতের ধীরগতি এবং বৃষ্টির পানিতে আবাদপূর্ণ অংশে জলার ফলে যানজট সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পরিবহনচালক ও যাত্রীরা জানান, কখনও কখনও এই অংশটি পার হতে গেলে ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
“ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতে স্বাভাবিকভাবে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে শুধু আমতলী অংশ পার হতেই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা চলে যাচ্ছে। ভাঙা রাস্তায় গাড়ির সাসপেনশন ও চ্যাসিস ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে,”
— ঢাকাগামী এশিয়া লাইন বাসের চালক জুয়েল রানা।
জরুরি মেরামত, কিন্তু স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিত
সরেজমিনে দেখা যায় মেরামত কাজ হিসেবে অংশটিকে ইট-বালু দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে চলাচল যোগ্য রাখা হয়েছে। তবু বৃষ্টির পর পরিস্থিতি দ্রুত আরও খারাপ হচ্ছে। এক বেসরকারি চাকরিজীবী যিনি সকালবেলায় জায়গা ছাড়েন, তিনি জানান সকালে জাঙ্গালিয়া থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে আলেখারচরের ভাঙা অংশ পার হতে দেড় ঘন্টা সময় লেগেছিল; এতে তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন বিঘ্নিত হচ্ছে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানান, সোমবার রাতে ভারী বৃষ্টির ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয় এবং সারারাত তারা রাস্তায় ছিল; তবে ভাঙা সড়ক মেরামত না করা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোগান্তি চলতেই থাকবে।
প্রকৌশলীর ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্য পরিকল্পনা
সড়ক ও জনপথ (গৌরীপুর) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা কুমিল্লার এই অংশের ক্ষতির পেছনে প্রযুক্তিগত কারণ ও সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করে বলেন, বৃষ্টির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পানি জমে যানচলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তারা জরুরি মেরামত করে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করছেন। মহাসড়কে ২৪ ঘণ্টা তীব্র যানবাহনের চাপ থাকার কারণে নির্মাণকাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পাওয়া যায় না।
তবে তিনি জানান, সড়কটি স্থায়ীভাবে আরসিসি (ঢালাই) করার লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্পের তহবিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও বিশেষজ্ঞ মতামত
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোরে এই ধরণের অস্থায়ী সংস্কার সমাধান হতে পারে না। দ্রুত এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন করা না হলে বারংবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মানসম্মত রাস্তায় পরিণত রাখতে ব্যয় ও সময় একইভাবে বাড়বে।
- প্রতিদিন মোট যানবাহন সংখ্যা: ৩৫–৪০ হাজার (প্রতিবেদন অনুসারে)
- ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দৈর্ঘ্য (আলেখারচর আমতলী): প্রায় আধা কিলোমিটার
- জটের দৈর্ঘ্য: ১০–২০ কিলোমিটার (দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিদিন চলাচলকারী যানবাহন | ৩৫–৪০ হাজার |
| ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দৈর্ঘ্য | প্রায় ০.৫ কিমি |
| জট সৃষ্টি করেনি দৈর্ঘ্য | ১০–২০ কিমি |
এখনকার জরুরি প্রয়োজন হচ্ছে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করে শক্ত ভিত্তির স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করা, যাতে কুমিল্লা ও দেশের প্রধান এই করিডোরে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত চলাচল স্বাভাবিক থাকতে পারে। স্থানীয়রা আশা করছেন—যত দ্রুত সম্ভব বরাদ্দ পেলে আরসিসি ঢালাই সহ স্থায়ী সংস্কার করা হবে, না হলে প্রতিদিনের ভোগান্তি চলতেই থাকবে।