ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সৌধে ঘটে যাওয়া এক অমানবিক ঘটনায় জেলার সামাজিক নিরাপত্তা ও হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা-র দিকে গাইনি ওয়ার্ডের একটি ফাঁকা শয্যা থেকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে এক ৬০ বছর বয়সী অন্ধ নারীকে ডেকে বলা হয়। পরে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনাস্থল ও উদ্ধার-চেষ্টা
ভোরে ওই নারী হাসপাতালের সামনে ফিরে এসে কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালে থাকা লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করে এবং পুলিশকে খবর দেয়া হয়। হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন,
“ওই নারী হাসপাতালের ভর্তি রোগী ছিলেন না।”
তিনি আরও জানিয়েছেন যে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও পুলিশি অভিযান
ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, ভুক্তভোগীর প্রদানকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের নাম — বেল্লাল সিকদার ও নাসির। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাসির ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক এবং বেল্লাল সিকদার অটোরিকশাচালক বলে পরিচিত। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভুক্তভোগীর বয়স | ৬০ বছর (অন্ধ) |
| ঘটনার সময় | দিবাগত রাত ৩টা (সোমবার) |
| গ্রেপ্তার | বেল্লাল সিকদার, নাসির |
| আইনি ধারা | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা (সংশ্লিষ্ট) |
পূর্বপ্রেক্ষিত ও সামাজিক প্রভাব
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে সদর হাসপাতাল এলাকা ঘেঁষে অবস্থান করতেন। তাঁর পরিবারগত পরিসংখ্যান সম্পর্কে হাসপাতাল বা পুলিশি রেকর্ডে বিস্তারিত থাকলেও সংবাদ উৎস বলেছে, তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জননী হলেও আর্থিক অনটনের কারণে পরিবারের লোকজন নিয়মিত দেখাশোনা করেন না। এক বছর ধরে হাসপাতালের বারান্দা বা ফাঁকা শয্যায় দিন কাটানোর অভ্যাস ছিল। এই প্রেক্ষাপট ঘটনাটিকে জননিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার আলোচ্য করে তোলে।
- ভুক্তভোগী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাখা আছে।
- সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
- পাল্টা তদন্ত ও অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনাটি শহরের হাসপাতালের আঙিনায় সংঘটিত হওয়ায় জানতে চাওয়া হচ্ছে—হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রাতের সময় শয্যার পার্শ্ববর্তী দায়িত্ব পালনে থাকা কর্মীদের তৎপরতা কেমন ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যেসব শয্যা ফাঁকা ছিল সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকলেও রাতের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রবেশকারীরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পেরেছে, তা তদন্তের বিষয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ভুক্তভোগীর ছেলে ইউসুফ বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। স্থানীয় মানুষের দাবি—দূরপ্রান্তের ও সমাজের সবচেয়ে অসহায়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৎপর হওয়া উচিত।
এই ধরনের ঘটনা সমাজে ভয়, অসুশৃঙ্খলা ও অবহেলার মাত্রা তুলে ধরে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও যন্ত্রণার শিকাররা যাতে যথাযথ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা পান—এটাই স্থানীয় প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব বলে স্থানীয় সচেতনরা মনে করছেন।