জয়পুরহাট সরকারি কলেজের মাঠে অনুষ্ঠিত আন্তবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার খেলা চলাকালীন সময় একই ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনৈতিক ও বিধি-বহির্ভূত ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে টুর্নামেন্ট চলাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল, জানালার কাচ ও ফুলের টব সহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও লাঞ্ছনের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে তাঁর কার্যালয়ে যান। কথাকাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ও ঘটনার এক পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী ঝাড়ু হাতে অফিস কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এতে কর্মকর্তারা পাল্টা বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ঘটনাস্থলে ছিলেন অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের দলবদ্ধ উপস্থিতি।
ঘটনাক্রমে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে এক সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অধ্যক্ষ ও পুলিশের বক্তব্য
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি শিক্ষকদের সরিয়ে পড়ার্থীদের কথা শুনতে উদ্যোগ নিলেও কয়েকজন শিক্ষার্থী ঝাড়ু হাতে তার কার্যালয়ে ঢুকেছিল। অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘‘আমি বাইরে বের হয়ে গেলে তারা চেয়ার-টেবিল, অফিস কক্ষের কাচ ও ফুলের টেবস্রহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও লাঞ্ছিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।’’
“আমি বাইরে বের হয়ে গেলে তারা চেয়ার-টেবিল, অফিস কক্ষের কাচ ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।” — অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কলেজে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি জানান, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে ওসি যোগ করেন।
প্রতিযোগিতার ফল এবং ক্যাম্পাস প্রেক্ষাপট
ঘটনার দিন টুর্নামেন্টে কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। কলেজ সূত্রে জানা যায়, ওইদিনের ম্যাচগুলো থেকে ফলাফলগুলো ছিল:
| ম্যাচ | ফলাফল |
|---|---|
| উচ্চমাধ্যমিক মানবিক ও বাণিজ্যিক (যৌথ) বনাম উদ্ভিদবিজ্ঞান | ১–০ — উচ্চমাধ্যমিক মানবিক ও বাণিজ্যিক জয়ী |
| রসায়ন বনাম ব্যবসায় শিক্ষা | টাইব্রেকার ৫–৪ — রসায়ন বিভাগ জয়ী |
এই ফলের প্রেক্ষিতে ম্যাচের উত্তেজনা ও প্রতিপক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য সম্পর্কিত চাপের আশঙ্কা ছিল — তবে ভাঙচুর ও সহিংসতায় পর্যবসিত হওয়ার বিষয়টি আলাদা এবং তা নিন্দনীয় বলে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ উভয়েই মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী সম্ভাব্য ব্যবস্থা
কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া এ ধরনের অশান্তি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ ও শিক্ষার নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ঘটনার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং ক্লাসপরিকল্পনা ও টুর্নামেন্টের বাকী অংশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পুলিশ ঘটনার যৌক্তিক তদন্ত করে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ আসন্ন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- ভাঙচুরের অভিযোগ — অফিস কক্ষের আসবাবপত্র, কাচ ও ফুলের টব সহ বিভিন্ন সামগ্রী নষ্টের অভিযোগ করা হয়েছে।
- শারীরিক সহিংসতা — একজন শিক্ষার্থীর মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
- সাংবাদিক হুমকি — ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে একজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে কলেজ প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখলেও ঘটনার সব দিক সন্নির্বাচিতভাবে তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসে আইনের শাসন নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হবে বলে সমাজ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।