শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রান্নাঘরে মজুত থাকা ককটেল বিস্ফোরণের ফলে গুরুতরভাবে আহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগম (৪০) দুই সপ্তাহ চিকিৎসার পর শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকার বনশ্রী এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন।
ঘটনার পুনরাবৃত্তি ও চিকিৎসা যাত্রা
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার নিহতের পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে স্থানান্তর করা হয়। ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডের হিসাব ব্যবস্থাপক হিমেল আহম্মেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে হাসপাতালে ভর্তী থাকা রোকেয়া বেগম সকাল ১০টায় মারা গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।পিছনের কাহিনী: কিভাবেexplode?
পুলিশ ও স্থানীয়দের বর্ণনায়, وقوع ঘটে দুপুরে যখন রোকেয়া পরিবারের জন্য রান্না করছিলেন। তখন রান্নাঘরে আগে থেকেই মজুত রাখা বিস্তর ককটেল একযোগে বিস্ফোরিত হলে আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রান্নার টিনের চালা উড়ে গিয়ে পাশের বাঁশ বাগানে পড়ে এবং দুইটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেশী ও স্থানীয় বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, ঘটনায় আগে থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধ নিবিড় ছিল। মুলনা ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদন রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁ—এই বিরোধ থেকেই ভাঙন ধরার ইতিহাস আছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনার কিছু আগেই—১০ আগস্ট—চরকান্দি এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার ফলে এক ব্যক্তির হাত কবজি ভেঙে যায় এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
আইনি প্রক্রিয়া ও অভিযোগের অবস্থা
জাজিরা থানার ওসি সালেহ্ আহম্মেদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণের সময় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়ে অফিসিয়ালি কোন কাগজপত্র তাদের কাছে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিতভাবে মামলা করেনি—এমন তথ্যও তিনি জানিয়েছেন।
"বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সেই সময় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। তবে কেউ মামলা বা লিখিত অভিযোগ করেনি।"
পূর্বঘটনা ও আক্রান্তদের রিপোর্ট
উল্লেখিত আগের বিস্ফোরণে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন যে ৭০ বছর বয়সী মান্নান সরদার নামের এক ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হয়ে মারা গেছেন। বর্তমানে এ ঘটনায় একটি মামলা চলমান থাকলেও বিতর্ক ও অভিযোগ না থাকায় পরিস্থিতির আইনি নিষ্পত্তি দিশাহীন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
প্রভাব ও উদ্বেগ
- আক্রান্ত পরিবার ও আশপাশের বসবাসকারীদের নিরাপত্তা উদ্বেগে আছে।
- রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূত্র ধরে এলাকায় ককটেল রক্ষার প্রচলন হলে ফের অনেকে বিপদের মুখে পড়তে পারে।
- স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার দাবি উঠেছে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৫ সেপ্টেম্বর | চরধুপুরিয়া চরকান্দিতে রান্নাঘরে ককটেল বিস্ফোরণ; রোকেয়া গুরুতর আহত |
| ১০ আগস্ট | চরকান্দিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ; শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় |
| ১৯ সেপ্টেম্বর | ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে রোকেয়া বেগমের মৃত্যু |
কী জানতে চায় স্থানীয়রা
স্থানীয়রা জানতে চাচ্ছেন—কর্নধার কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাড়িতে ককটেল রাখা হচ্ছিল কি না, কেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলেন না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সংঘাত নিরসনে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ সম্পর্কেও সংশ্লিষ্টদের কাছে স্পষ্টতার দাবি রয়েছে।
এই ঘটনার পর এলাকাবাসী এবং পরিবারের সদস্যরা চাইছেন তদন্ত দ্রুত করে বাস্তব তথ্য বের করা হোক এবং যাঁরা এই ধরনের বিস্ফোরক বস্তু মজুদ ও ব্যবহার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার আইনি এবং নিরাপত্তামূলক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা ব্যক্ত করা হয়েছে।