গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইজ্জতপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের আউটার সিগন্যাল এলাকায় শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ট্রেনে কাটা পড়ে এক দম্পতির মরদেহ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে জানিয়েছে, নিহতরা স্বামী-স্ত্রী—আল আমিন (৩২) ও তাঁর স্ত্রীর নাম রিনা আক্তার (৩০)।
ঘটনার করোনার বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, ওই সময় আউটার সিগন্যালের কাছে দুইজনের ছিন্নভিন্ন অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধারকারী এবং পুলিশকে খবর দেয়। কোন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা গেছেন, তা প্রাথমিক পর্যায়ে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার পর শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাজ শুরু করে।
“লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
উক্ত কথাগুলো শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানিয়েছেন।
পটভূমি ও পরিবারিক তথ্য
রিনা আক্তারের বাড়ি শ্রীপুরের বর্মি ইউনিয়নে। নিহত রিনার পিতার নাম সিদ্দিক মিয়া। স্থানীয়দের ও তাদের স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, আল-আমিন ও রিনা চার বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে তারা শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
- নিহতদের নাম ও বয়স — আল আমিন (৩২), রিনা আক্তার (৩০)
- বসবাস — ভাংনাহাটি, শ্রীপুর পৌরসভা (ভাড়া বাসা)
- পরিবারিক অবস্থা — দ্বিতীয় বিয়ে; পরিবারের সম্মতি ছিল না
রিনার স্বজনরা জানান, দম্পতি সম্প্রতি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এই কারণটিকে ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে বলে পরিবারের কিছু সদস্য ধারণা পোষণ করেছেন। পুলিশ এই তথ্য যাচাই করছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করেছে।
তদন্ত ও দাবি
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রপ্তানি-প্রক্রিয়া ও ফরেনসিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি যে তাদের মৃত্যু ট্রেনের ধাক্কায় হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে—যা তদন্তে স্পষ্ট হবে।
| নাম | বয়স | ঠিকানা (উল্লেখ্য) |
|---|---|---|
| আল আমিন | ৩২ | শ্রীপুর (ভাংনাহাটি, ভাড়া বাসা) |
| রিনা আক্তার | ৩০ | বর্মি ইউনিয়ন (পৈতৃক), বর্তমানে ভাংনাহাটি |
শ্রীপুর থানার কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য অন্যান্য কারণ, যেমন আত্মহত্যার ইঙ্গিত বা অপর কোনো ঘটনার চিহ্ন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত লাশ লক্ষ্যণীয়ভাবে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে; তা সম্পূর্ণভাবে পুলিশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ রয়েছে—আদর্শগত বিচ্ছিন্নতা, অর্থনৈতিক চাপ বা অভ্যাগত আসক্তি কোনোটির সঙ্গে যুক্ত হলে তা সমাজে আরো বিস্তার লাভ করতে পারে। ঘটনার পর শ্রীপুর ও আশপাশের মানুষ তীব্র চিন্তায় পড়েছেন। পুলিশ নগরীর সংশ্লিষ্ট আইনগত কার্যক্রম নেয়ার পাশাপাশি পরিবারের বক্তব্য রেকর্ড করে তদন্ত এগোয় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় পরবর্তী সময়ে নেবার মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ময়নাতদন্তের ফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানানো হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সতর্ক রয়েছে।
ঘটনায় আরও বিবরণ পাওয়া গেলে, সেই অনুসারে পরবর্তী রিপোর্টে তা উপস্থাপন করা হবে।
প্রতিবেদন: শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি, WE NEWS