ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রাস্তায় যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে। সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রউফ। সভায় প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
কাজের গতি ও মান বজায় রাখার নির্দেশ
সভায় প্রধানত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করা হয়। প্রজেক্টের প্রতিটি প্যাকেজের বর্তমান অগ্রগতি, মাঠপর্যায়ের অবস্থা, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। সভাপতির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ এবং নির্মাণ কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয় যাতে কাজের গতি বাড়ানো যায় এবং যেকোনো জটিলতা দ্রুত নিরসন করা যায়।
প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রত্যক্ষ প্রভাব
সভায় বক্তব্যে সেতু সচিব রউফ উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী দিকনির্দেশনা, নিয়মিত তদারকি ও আরডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমে মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার প্রবেশগম্যতা সহজ হবে এবং সাভার, আশুলিয়া, বাইপাইল ও ইপিজেড এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত হবে—ফলশ্রুতিতে রাজধানীর সামগ্রিক যানজট নিরসনে এটি কার্যকরি ভূমিকা রাখবে।
- আপেক্ষিক লক্ষ্য: প্রকল্প সময় অনুযায়ী শেষ করা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করা।
- ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: নির্মাণকালে সাধারণ জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখার জন্য পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
- ভূমি ও ইউটিলিটি স্থানান্তর: অবশিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং পাইপলাইন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগের আন্ডারগ্রাউন্ড ইউটিলিটি লাইন দ্রুত স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় কার্যকর করার নির্দেশ আছে।
নিরাপত্তা ও স্থায়ী সমন্বয়ের আহ্বান
পর্যালোচনায় প্রকল্প এলাকাজুড়ে চলমান নির্মাণকাজ এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল বিবেচনায় রেখে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড, উন্নত নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করলে নির্মাণকালে দুর্ঘটনা ও ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।
“প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে,”
সভায় আরও নির্দেশ দেওয়া হয় যে, নির্মাণকাজে যুক্ত সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে সময়মতো প্রকল্প শেষ হয় এবং নগরীর ব্যস্ততম হিসেবের অংশগুলোর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
| আলাপিত বিষয় | নির্দেশ / লক্ষ্য |
|---|---|
| কাজের গতি | ত্বরান্বিত করা, নির্ধারিত সময়মত সম্পন্ন করা |
| গুণগত মান | উচ্চ মান বজায় রেখে নির্মাণ নিশ্চিত করা |
| জনসাধারণের চলাচল | ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সাইনবোর্ড নিশ্চিত করা |
| ভূমি ও ইউটিলিটি | ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত চূড়ান্ত; আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন দ্রুত সরানো |
পর্যালোচনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা আশা ব্যক্ত করেন যে, সুগঠিত তদারকি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি সময়মতো এবং প্রত্যাশিত মান অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে। ঢাকার অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক যোগাযোগে যে সুবিধা সৃষ্টি হবে তার পাশাপাশি এটি রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদী যানজট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এটাই কর্তৃপক্ষের আশাবাদ।
ঢাকাবাসী ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলা এই প্রকল্প সম্পর্কে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কর্মতালিকা, সময়রেখা ও মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাবে বলে সভায় জানানো হয়েছে।