পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় বুধবার গভীর রাতে তেঁতুলিয়া নদীর প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধের দুটি স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ঘটনায় বেড়িবাঁধের ওই অংশ দুই ভাগে বিধে ভেঙে পানি প্রবেশ করে স্থানীয়ভাবে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে তালিকা করে জানা গেছে—৫০টি বসতঘর প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ১০০ একর কৃষিজমি পানির তলায় ডুবে গেছে।
পরিদর্শনে পাউবো ও জেলা প্রশাসন
আজ দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পশ্চিম রিজিয়ন) মো. মুখলেসুর রহমান নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা, দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম, বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুবেল হোসেন এবং পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ তালুকদার।
পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহিদ হোসেনও ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিয়েছেন বলে এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য। ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবী সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন।
প্রাথমিক ত্রাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ভাঙন ঘটার পর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানগুলোতে সরিয়ে নেওয়া শুরু করে। ইউএনও ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য প্রাথমিক ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি উদ্ধারকাজও পরিচালিত হচ্ছে।
পাউবো’র প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
“হাজিরহাট ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মুখলেসুর রহমান পরিদর্শনের সময় আশ্বস্ত করেন যে, ভাঙন রোধে দ্রুত এবং স্থায়ী সমাধান খুঁজে নেওয়া হবে। তবে তিনি একই সঙ্গে জানান যে, নির্দিষ্ট প্রকল্প ও তহবিল অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে কিছু সময় লাগতে পারে এবং তৎকালীন জরুরি মেরামত কাজ চালানো হবে যাতে আরও বিস্তৃত ক্ষতি রোধ করা যায়।
ক্ষতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতির সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হল—
- বসতঘর প্লাবন: ৫০টি
- কৃষিজমি প্লাবন: প্রায় ১০০ একর
- অবকাঠামোঃ বেড়িবাঁধের দুই স্থানে ফাটল ও ভাঙন
- অস্তায়ী সরানো: ইউএনও ও পুলিশ নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেছেন
| বিবরণ | সংখ্যা/পরিমাণ |
|---|---|
| প্লাবিত বসতঘর | ৫০ |
| প্লাবিত কৃষিজমি | প্রায় ১০০ একর |
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রভাব
ক্ষতিগ্রস্তদের কথায়, অকাল রাত্রে বেড়িবাঁধ ফেটে হঠাৎ পানি প্রবেশ করলে অনেকেই বসতসামগ্রী উদ্ধার করতে পারেননি। গবাদিপশু, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, বীজতলা ও সেচ-প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমের ফসল নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের জন্য এ ধরনের বেড়িবাঁধ ভাঙন অর্থনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষতিপূরণ, জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের বিষয়ে দ্রুত পরিষ্কার নির্দেশনা না পেলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার জট বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন অনেকে।
পরবর্তী করণীয় ও প্রশাসনের নির্দেশনা
পাউবো ও জেলা প্রশাসন জানায়, প্রথমেই জরুরি মেরামত করে পুনরায় স্রোত নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পরে তাত্ক্ষণিক ক্ষতিমূল্যায়ন করে স্থানীয়দের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এছাড়া তিনটির মধ্যে এক বা একাধিক স্থানে স্থায়ী পুনর্গঠন প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে—যা প্রকৃতি ও নদীর আচার-আচরণ বিবেচনায় উপযুক্ত হবে।
ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। আগামী কয়েক দিনে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং তাত্ক্ষণিক সহায়তা কীভাবে কার্যকর হবে, সেটাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কেউ যেকোনো প্রাথমিক সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় পুলিশ সোনায় যোগাযোগ করেছেন।