চট্টগ্রামে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার এই বছর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের মোট পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে—যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম।
পরিসংখ্যান ও ফলের প্রধান তথ্য
বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। উপস্থিতদের মধ্যে পাস করেছেন ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের মোট সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন—এবারের তুলনায় তা显ভাবে বেশি।
| বিষয় | সংখ্যা/শতাংশ |
|---|---|
| মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী | ১,৩০,৬৮২ |
| উপস্থিত | ১,৩০,২১৯ |
| পাস | ৭৭,৪৫৩ |
| পাসের হার | ৫৯.৪৮% |
| জিপিএ-৫ প্রাপ্ত | ৯,৩৯৮ |
বিভাগভিত্তিক পারফরম্যান্স ও গত বছরের তুলনা
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪.৪১%, যেখানে আগের বছর ছিল ৯২.৫৭%। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬০.১২%। ২০২৫ সালের পাস হার ছিল ৭২.০৭% এবং সেই হিসেবে এবারের মোট হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২.৫৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। গত পাঁচ বছরের জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যার ধারায় এবারের ফল সবচেয়ে নিচে—আগের বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১,৮৪৩ জন।
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফল ও উদ্বেগ
চট্টগ্রাম বোর্ডভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে মোট অংশ নিয়েছে ১,২১৮টি স্কুল, যেগুলো বিতরণ করা ছিল ২১৮টি কেন্দ্রে। জানা গেছে, ২১টি স্কুলের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, কিন্তু অপরদিকে ৮টি স্কুলে একজনও পাস হয়নি। অন্যান্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে কিছু স্কুলে পাসের হার শূন্য থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে, যেখানে অনেক স্কুলে ৫১ থেকে ৯৯ শতাংশ পাস হয়েছে।
- মোট কেন্দ্র: ২১৮
- পরীক্ষা কেন্দ্রে স্কুল সংখ্যা: ১,২১৮
- শতভাগ পাস করেছে: ২১ স্কুল
- একজনও পাস করেনি: ৮ স্কুল
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নাবলী
চট্টগ্রামে সামগ্রিক ফলপত্রের এ ধরনের পতন শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে—শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পাঠদানের মান, পরীক্ষা পরিবেশ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক কারণ খতিয়ে দেখা দরকার। অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং স্থানীয় স্কুল প্রশাসন, শিক্ষক ও বোর্ডের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।
ফলাফল ঘোষণার সময় বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বিস্তারিত ফল তুলে ধরেন। যদিও বোর্ড কোন একক কারণ চিহ্নিত করে আকারে ব্যাখ্যা দেননি, তবে গত বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে পতন দৃশ্যমান।
পরবর্তী করণীয় ও অভিভাবকদের করণীয়
এ ধরনের পতনের পর বোর্ড ও স্কুলগুলোকে দ্রুত ফল বিশ্লেষণ করে দুর্বলতার স্থানে মনোযোগ দিতে হবে—শিক্ষকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, শিক্ষাক্রম সমন্বয়, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং শৈক্ষিক সহায়তা বৃদ্ধি করা জরুরি। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের দুর্বল বিষয় শনাক্ত করে গাইডেড টিউশনি বা বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষাব্যবস্থার সামনে দাঁড়ানো এই চ্যালেঞ্জ স্থানীয়ভাবে গভীর আলোচনা ও সক্রিয় পরিকল্পনা ছাড়া সামাধান হবে না। ফলাফল সরকারের—বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের—শিক্ষানীতিতে রূপরেখা বদলের নির্দেশও দিতে পারে।
নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
WE NEWS