চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এলাকা থেকে প্রকাশিত চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হার ও জিপিএ-৫—উভয়ই গত বছরের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। সোমবার বোর্ড মিলনায়তনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল উপস্থাপন করেন।
সার্বিক অবনতি এবং পরীক্ষা-পরিসংখ্যান
বোর্ড সূত্র জানায়, এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন, পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। পরীক্ষায় সফল হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী, ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯.৪৮ শতাংশ—গত বছরের ৭২.৭০ শতাংশ থেকে তা কমেছে।
এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১১ হাজার ৮৪৩ জন। তুলনামূলকভাবে এবার জিপিএ-৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৫ জন কমেছে।
বিভাগভিত্তিক পারফরম্যান্স
চট্টগ্রাম বোর্ডে তিনটি প্রধান বিভাগে পাসের হার কমে গেছে—বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে পতন নিয়ত দুটি সংখ্যা চোখে পড়ার মতো:
- বিজ্ঞান বিভাগ: পাস হার ৮৪.৪১% (গত বছর ৯২.৫৭%)
- ব্যবসায় শিক্ষা: পাস হার ৬০.১২% (গত বছর ৭৩.৫৪%)
- মানবিক: পাস হার ৩৮.৭৯% (গত বছর ৫৫.০২%)
বিভাগভিত্তিক পরীক্ষার্থী সংখ্যাও বোর্ড প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে: বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩৪,৯৮০ জন; মানবিক বিভাগে ৪৩,৯৫৮ জন; এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫১,৭৩০ জন।
| বিভাগ | পরীক্ষার্থী (এবছর) | পাস হার (এবছর) | পাশের হার (গত বছর) |
|---|---|---|---|
| বিজ্ঞান | ৩৪,৯৮০ | ৮৪.৪১% | ৯২.৫৭% |
| মানবিক | ৪৩,৯৫৮ | ৩৮.৭৯% | ৫৫.০২% |
| ব্যবসায় শিক্ষা | ৫১,৭৩০ | ৬০.১২% | ৭৩.৫৪% |
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফলটি হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। স্কুল-কলেজগুলোতে ভর্তি, বৃত্তি এবং উচ্চমাধ্যমিকে পঠনক্রমের দিক নির্ধারণেও ফলের প্রভাব পড়ে। মানবিক বিভাগের মূলধারায় বড় পতন শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক দুর্বলতা বা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
শিক্ষাবোর্ডের কণ্ঠে এমন কোন বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি যে কেন এ বছর ব্যাপক উত্থান-পতন ঘটল। পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে তিন বিভাগেই ফলাফলে অবনতি ঘটেছে, তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ, জেলা শিক্ষা অফিস ও স্কুল প্রশাসনদের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা বা দুর্বল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম দ্বারা উদ্ভূত কিনা তা দ্রুত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
পরবর্তী করণীয় ও সহায়তা
ফলাফলের দ্রুত বিশ্লেষণ ও সমস্যা নির্ণয়ের ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের গুরুত্বারোপ জরুরি। প্রধান কিছু করণীয় হতে পারে:
- বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাগত শি্ষা মান উন্নয়নের অডিট ও সাপোর্ট প্রোগ্রাম চালু করা।
- অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে দুর্বল বিষয় ও পরীক্ষার প্রস্তুতির কৌশল চিহ্নিত করা।
- গভীরভাবে পতিত বিভাগগুলোতে অতিরিক্ত কোচিং, টিউটোরিয়াল ও রিক্যাপ সেশন পরিচালনা করা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আগামী পরিকল্পনা কী হবে, সেটি বোর্ড প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট হবে। ফলাফলে এমন পতন শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য সতর্কবার্তা।
এই রিপোর্টে ব্যবহার করা সব সংখ্যা ও তথ্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ উপস্থাপনেই সীমাবদ্ধ। ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন চিহ্নিত করতে আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।
নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
WE NEWS