চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই বিদেশি মাদার ভেসেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইক ও নোঙর করা বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সানশাইন জড়িত বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রাথমিক বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম ঘটনার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, "স্থানীয় জলসীমায় জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।" সংঘর্ষের পরপরই তৎক্ষণাৎ উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পরে বাংলাদেশের নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন্দরের টাগবোট একযোগে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকাজে বিশেষ করে টাগবোট কান্দারী-৮ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুর্ঘটনাস্থলে জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
জাহাজ দুটির অবস্থা ও কার্গো
বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজটিতে প্রায় ৩৩,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল থাকা কথা বলা হচ্ছে। সংঘর্ষের ফলে এমটি সি স্পাইকের ইঞ্জিনরুমের পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক ১ বর্গমিটার আয়তনের ফাটল দেখা দেয়, যার ফলে সেখানে পানি প্রবেশ করে সাময়িকভাবে ব্ল্যাকআউট (বিদ্যুৎ বিভ্রাট) ঘটে। তবে জরুরি ব্যাটারির মাধ্যমে ভিএইচএফ যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে এবং সব কার্গো ট্যাংক অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে কোনো তেল নিঃসরণের খবর পাওয়া যায়নি।
"বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার ও স্থিতিশীলকরণে কাজ করছে; জাহাজের সব কার্গো ট্যাংক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে ও কোনো তেল নিঃসরণ হয়নি", — বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা
দুর্ঘটনার পরে দ্রুত নিকটস্থ স্যালভেজ কোম্পানিকে ফাটল মেরামত ও উদ্ধারকাজে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংকে জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল খালাসের জন্য তৎপরতা নিতে বলা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
- সংঘর্ষের সময়কাল: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, বেলা সাওড়েজে ১২ টার দিকে
- জড়িত জাহাজ: এমটি সি স্পাইক (তেলবাহী) ও এমভি সানশাইন (বাল্ক ক্যারিয়ার)
- কার্গো: প্রায় ৩৩,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল (ট্যাংকারে)
- প্রাথমিক ক্ষতি: ইঞ্জিনরুম পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক ১ বর্গমিটার ফাটল, সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট
- তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকারী: বন্দরের টাগবোট কান্দারী-৮, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড
সংক্ষিপ্ত তথ্যসারণী
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | চট্টগ্রাম বন্দর, বহির্নোঙ্গর স্থানীয় জলসীমা |
| ঘটনার সময় | ১৪ আগস্ট, দুপুর সাড়ে ১২টা (প্রাথমিক রিপোর্ট) |
| জড়িত জাহাজ | এমটি সি স্পাইক (তেলবাহী), এমভি সানশাইন (বাল্ক ক্যারিয়ার) |
| প্রাথমিক ক্ষতি | ইঞ্জিনরুমে ফাটল—পানি প্রবেশ, ব্ল্যাকআউট; কার্গো ট্যাংক অক্ষত |
পরে কি হবে — তদন্ত ও পরিবেশগত ঝুঁকি
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত করা হবে। তীব্র স্রোত বা ন্যাভিগেশনগত ত্রুটি—কোনটি দায়ী ছিল তা তদন্ত শেষে জানানো হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা; বর্তমানে কোনো তেলের ঝরনা না থাকলেও ট্যাংকারে অপরিহার্য সতর্কতা ও নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও তৎপর উদ্ধারকাজ জাহাজ থেকে তেল খালাস ও স্যালভেজ কাজে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে সংঘটিত এ ধরনের দুর্ঘটনা স্থানীয় ও সমুদ্র পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করে। ইতিমধ্যে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের অংশগ্রহণ উদ্ধারকাজকে ত্বরান্বিত করেছে। তদন্তের পর বিস্তারিত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বিবরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।