রোববার (৯ আগস্ট) সকালে বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ঢাকার বায়ুমান উন্নতির শেস লক্ষণ দেখা গেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সকাল ৯টায় প্রকাশিত সূচকে ঢাকার এআইকিউ = ৯৫ রেকর্ড করা হয়, যা পরিবেশগত সূচকে 'মাঝারি' বা আপাতত সহনীয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
আইকিউএয়ারের তুলনামূলক চিত্র
আইকিউএয়ারের ক্ষণস্থায়ী পর্যবেক্ষণে একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে ছিল উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। সেখানে সূচক ছিল ১৮৫, যা 'অস্বাস্থ্যকর' পর্যায়ে পড়ে। তালিকার প্রথম পাঁচ শহরের অবস্থান ও সূচক নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো।
| শহর | এআইকিউ | শ্রেণি |
|---|---|---|
| কাম্পালা | ১৮৫ | অস্বাস্থ্যকর |
| কুচিং | ১৬১ | অস্বাস্থ্যকর |
| জাকার্তা | ১৬১ | অস্বাস্থ্যকর |
| মানামা | ১৫৬ | অস্বাস্থ্যকর |
| দোহা | ১৪৪ | সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর |
ঢাকার পরিসংখ্যান ও সম্ভাব্য কারণ
আইকিউএয়ারের ক্রাইটেরিয়া অনুসারে এআইকিউ ৫১–১০০ পর্যন্ত মানকে 'মাঝারি' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের শ্রেণিবিভাগও এধরণের সীমার সঙ্গে মিল রাখে। ফলে সকাল ৯টার ৯৫ নম্বরের মান ঢাকায় আপাতত স্বাস্থ্যঝুঁকি কম খাতায় রাখে, কিন্তু পুরোপুরি নিরাপদও নয়।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা সমসাময়িকভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। দিনের ভেতরেই একই শহরে সূচকে বড় ধরনের ওঠা-পড়া দেখা যায়। বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা সাময়িকভাবে ক্ষণস্থায়ী শূন্যীকরণ ঘটায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দূষণ কমাতে নীচে বর্ণিত কারণগুলো মোকাবিলা জরুরি:
- বাতাসে যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া ও ট্রাফিক জ্যাম থেকে সৃষ্ট কণা;
- নির্মাণকাজ ও ধুলার কারণে বায়ুবাহিত ক্ষুদ্র কণিকা;
- শিল্পকারখানা ও অন্যান্য উৎস থেকে নির্গত দূষণ;
- আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন—অস্থায়ী প্রভাব;
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নীতিনির্ধারকের সমন্বয়ের অভাব।
“৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সূচককে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্তকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়েছে,”
আইকিউএয়ার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এই শ্রেণিবিভাগ রোজকার সূচক বিশ্লেষণে গুরুত্ব বহন করে। ফলে সকালের ৯৫ মান আপাতত তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও দিনের বেলা বাতাসের মান দ্রুত খারাপ হতে পারে—বিশেষ করে যদি বৃষ্টিপাত না থাকে বা সন্ধ্যার দিকে যানবাহন ও শিল্প কার্যক্রম বাড়ে।
স্থানীয় প্রভাব ও পরামর্শ
ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য এই ধরনের অস্থির পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা দরকার। বিশেষত:
- শ্বাসকষ্ট বা হৃৎরোগের সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের সকালে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে;
- বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য খোলা বাতাসে দীর্ঘ সময় না থাকা উত্তম;
- নিয়মিত এআইকিউ রিপোর্ট দেখে দিনের কার্যক্রম সাজানো যেতে পারে।
আজকের সূচক সাম্প্রতিক কিছুকালের তুলনায় নীরব আশ্বাস দিলেও চলতি বছরের শুরুতে ঢাকার বায়ুমান অনেক সময় ২০০-এর ওপরে উঠেছিল, যা 'খুবই অস্বাস্থ্যকর' পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল। তাই দীর্ঘস্থায়ী উন্নতির জন্য আবহাওয়া পরিবর্তন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থল তত্বাবধান ও শিল্পবায়ু নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ঢাকায় বায়ুমানের বিশ্লেষণ চলমান; দিনের বিভিন্ন সময়ে সূচকে পরিবর্তন হতে পারে। আইকিউএয়ার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাই এখনো সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত উপায়।