দীর্ঘ কর্মকাল ও ওঠা-নামা
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হক দীর্ঘ সময় ধরে একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারী নথি অনুযায়ী তিনি ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর ঘাটাইলে যোগ দেন। এ ছাড়াও, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্তও তিনি ঘাটাইলে কর্মরত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। ফলে দুই মেয়াদ মিলিয়ে একই স্থানে তার কার্যাবলী মোটামুটি ১৩ বছর পর্যন্ত দাঁড়ায়—যা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থিরতার পাশাপাশি সমালোচনার কারণও হয়েছে।
উঠা অভিযোগের সারমর্ম
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এনামুল হকের বিরুদ্ধে প্রধানত নিম্নোক্ত অভিযোগ উঠে এসেছে:
- সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম—কাগজে প্রকল্প দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ করা হয়নি বলার অভিযোগ।
- অর্থ আত্মসাৎ—কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য বা তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
- কাগজে শ্রমিক কাজ দেখানো—কর্মসৃজন কর্মসূচিতে নামমাত্র কাজ করিয়ে প্রকৃত শ্রমিকদের নামে অর্থ তুলার অভিযোগ।
- প্রকল্পে সিন্ডিকেট বা যোগসাজশ—একাধিক প্রতিবেদনে এনামুল হককে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিস্বরূপ বাংলাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন ও সরকারি প্রতিক্রিয়া
২০১৯ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘাটাইলের কাবিখা প্রকল্পে ২৩৯.৮৫৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানোর তথ্য তুলে ধরে সেখানে অন্তত ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোতেও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য অনিয়মের দাবিগুলো উঠে এসেছে।
“টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত... পিআইওসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ টাকা ফেরত নেওয়া হয়।”
এই আকৃতির তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ আছে যে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কিছু তদন্ত কার্যক্রমে তৎপরতা দেখিয়েছে এবং সরকারি অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে।
প্রভাব ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট
ঘাটাইলের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসময় ধরে একই কর্মকর্তা থাকায় স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ও সরকারি সহায়তা কার্যকারিতার ওপর সরাসরি প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পে অনিয়ম থাকলে সুবিধাভোগী মানুষজন প্রকৃত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন—এটি টাঙ্গাইল জেলার গ্রাম-শহরের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
| বিষয় | প্রকাশিত তথ্য |
|---|---|
| যোগদানের তারিখ | ১৫ নভেম্বর ২০১৬ |
| সম্ভাব্য কর্মকাল (মোট) | প্রায় ১৩ বছর |
| নির্দিষ্ট অভিযোগ | প্রকল্পে কাগজে কাজ, অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্প দেখানোর নামমাত্র উপায় |
| ফেরত নেওয়া অর্থ | ১,২৮,৬৯,৪০০ টাকা (প্রতিবেদন অনুসারে) |
প্রশাসন ও পাঠকের প্রশ্ন
ঘাটাইল ও সার্বিক টাঙ্গাইলের পাঠকরা জানতে চান—শিক্ষিত পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কিভাবে স্বচ্ছ করবেন, অনিয়ম ধরা হলে স্থানীয়ভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে প্রকল্প পর্যবেক্ষণ কিভাবে শক্ত করা হবে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত অনুসন্ধান ও অংশিক অর্থ ফেরত নেওয়ার তথ্য থাকলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এখন স্থানীয় মানুষের জন্য প্রধান চাহিদা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা বা এনামুল হকের বক্তব্য এই রিপোর্টে সরাসরি পাওয়া যায়নি; তথাপি প্রকাশিত কাগজপত্র, প্রতিবেদনের রেফারেন্স ও তদন্তের ফলাফল স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছে।