নগরকান্দা, ফরিদপুর: নগরকান্দা পৌরসভার অফিস কক্ষে বিল মুক্তি সংক্রান্ত তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে এক ঠিকাদারের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয় এবং তার হাত ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত ঠিকাদারকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
আহত ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজ ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় তিনটি রাস্তায় আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করেছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল অনুমোদন সত্ত্বেও সম্মিলিতভাবে বিল মুক্তি দেরি করা হয়।
হাসিবুলের দাবি, বিল মওকুফের ক্ষেত্রে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির প্রথমে মোট বিলের ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন এবং পরে আপত্তি জানালে তা কমিয়ে ১২ শতাংশ দাবি করা শুরু করেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে ১০ আগস্ট তিনি প্রথম কিস্তি হিসেবে ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন এবং পরে আরও ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়; বিল আটকে রেখে তাকে হয়রানি করা হচ্ছিল।
আহত ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
আহত ভাষ্য অনুযায়ী আজ দুপুর দেড়টার দিকে আটকে থাকা বিল নিয়ে আলাপ করতে গেলে পৌর কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগী মোসলেম উদ্দিন তার উপর হামলা চালিয়ে জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করেন এবং ফলশ্রুতিতে তার হাত ভেঙে যায়। এরপর তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়ায় আছেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ ছিল বলেই বিল অনুমোদন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কাজ না শেষ থাকায় পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিল ছাড় না করা হচ্ছিল। ঠিকাদার তাঁর কক্ষে এসে তর্ক-বিতর্কের পর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালিয়েছেন—এমনটাই তাঁর দাবি।
পৌরপ্রশাসন ও তদন্তের দিক
পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন জানান, ঠিকাদারের কাজের অনিয়ম নিয়ে তারা অবগত রয়েছেন এবং কাজের মান ঠিক না থাকায় বিল ছাড়ের নির্দেশনা ছিল। তবে ঠিকাদার কী জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গিয়েছিলেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের নেই।
আহত ঠিকাদারের ভাই মাহামুদ হাসান সুজন অভিযোগ তুলেছেন, হুমায়ূন কবির গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং তার রাজনৈতিক সংযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, পুরনো সময় থেকেই তিনি প্রভাব দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জড়িত ছিলেন। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও জনদূর্ভোগ
নগরকান্দা পৌর এলাকায় এমন অভিযোগ তুললে একদিকে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। পাবলিক কন্ট্রাক্ট এবং বিল মঞ্জুরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকলে ঠিকাদার ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়—এমন আশঙ্কা জাগছে।
- তারিখ ও সময়: ঘটনার দিন—আজ বুধবার, দুপুর দেড়টার সময় (স্থানীয় সূত্র)।
- আহত: ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ (সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজ)।
- প্রতিযোগ্য আর্থিক দাবি: প্রথমে ১৫% পরে ১২%; ইতিমধ্যে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে, আরও ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প | আইইউআইডিপি, তিন রাস্তায় আরসিসি কাজ (২০২৩) |
| আহত ভর্তি | নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স → ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| পাশাপাশি দাবি | ঠিকাদারের অভিযোগ: বিল আটকে রেখে ঘুষ দাবি; পৌরকর্মীর দাবি: কাজ অসম্পূর্ণ |
বর্তমানে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ঘটনার বিবরণ ও আইনগত পদক্ষেপের স্বচ্ছতা দাবি করছেন যাতে তদন্ত সুষ্ঠু ও অব্যাহত হয়।
এই ঘটনা স্থানীয় সরকারি কাজ ও তদারকির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব আবারও浮িয়ে এনেছে। তদন্তের ফলে যা-ই প্রমাণিত হোক, তা ন্যায়ের আলোকে ধরা না পড়লে ভবিষ্যতে নির্মাণকার্যে অনৈতিক চাহিদা ও প্রশাসনিক জবরদস্তি রোধ করা যাবে না—এমন ভাবনা ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়।
অপরাধমূলক অভিযোগ ও অভিযোগ-অস্বীকৃতির এ দুই মুখই উঠে এসেছে; তাই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও আইনগত তদন্ত স্থানীয় জনগণের আস্থার পুনরুদ্ধারে জরুরি বলে এলাকাবাসী মনে করছে।