যশোর আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রাজস্ব খাতে মোট ৩৩টি পদ সৃজনের অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত পদগুলোর মধ্যে ২০টি স্থায়ী (ক্যাডার) ও ১৩টি বছর বছর সংরক্ষণের ভিত্তির অস্থায়ী পদ রয়েছে।
কীভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে পদগুলো
প্রশাসনিক চিঠিতে পদগুলো রোল ও সংখ্যার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ২০টি স্থায়ী পদের মধ্যে রয়েছে:
- সিনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) — ১টি
- সিনিয়র কনসালট্যান্ট (এনেসথেসিয়া) — ১টি
- জুনিয়র কনসালট্যান্ট (এনেসথেসিয়া) — ১টি
- এনেসথেটিস্ট — ১টি
- জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) — ২টি
- সহকারী রেজিস্ট্রার — ২টি
- মেডিকেল অফিসার — ১২টি
অন্যান্য সহায়ক পদের মধ্যে আছে নার্সিং সুপারভাইজার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি), ফার্মাসিস্ট (ডিপ্লোমা), পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, স্টোর কিপার, ফার্মেসি সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, টিকিট ক্লার্ক এবং রিসিপশনিস্ট—প্রতিটি একটি করে। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ও কম্পিউটার অপারেটর পদে দুইটি করে পদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও অতীত ব্যর্থতা
সিসিইউয়ের বিল্ডিং তিনতলা হিসেবে নির্মাণ সম্পন্ন হলেও পুরোদমে সেবা চালু করতে কয়েক যুগ ধরেই জনবল না থাকায় ব্যবস্থা কার্যত স্থবির ছিল। সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে এই সিসিইউ স্থাপনের কাজ শুরু হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে দীর্ঘ সময় জনবল নিয়োগ হয়নি; ফলে ক্রয়ে আনা কিছু মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম প্যাকেটবন্দি অবস্থাতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
“এটা শুধু যশোরবাসীর জন্য নয়, আশপাশের জেলার বাসিন্দাদের জন্যও সুখবর। এত দিন যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিট বাইরে থেকে দেখা যেত, ভেতরে সার্ভিস পেত না মানুষ।”
এই মন্তব্যটি করেছেন যশোর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. ফারুক এহতেশাম পরাগ।
কেন এই পদ অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ?
সিসিইউ হলো প্রয়োজনে গুরুতর হৃদরোগী ও অপারেশন-সংক্রান্ত তৎক্ষণিক এক্সপিডেড সেবা প্রদানের কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে জেলার বাইরে রোগীদের পাঠাতে হতো, জরুরি মুহূর্তে সময় নষ্ট হওয়ার কারণে পরিণতিও শোচনীয় হতে পারত। জনবল নিয়োগ হলে স্থানীয়ভাবে মনিটরিং, ইন্টারভেনশন ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সহজতর হবে।
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট অনুমোদিত পদ | ৩৩ |
| ক্যাডার (স্থায়ী) | ২০ |
| বছর বছর সংরক্ষণের ভিত্তিতে | ১৩ |
স্থানীয় নেতাদের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন
যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই পদ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিসিইউ পূর্ণাঙ্গ করার দাবি তিনি আগেও তুলেছিলেন। এতদূর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি অনুমোদন অর্জিত হওয়ায় প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে বলেই স্থানীয় রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মহলে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী করণীয় ও প্রত্যাশা
কর্তৃপক্ষকে এখন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করা, সরঞ্জাম চেক ও মেরামত করে অপারেশনাল করা এবং রোগী সেবা শুরু করা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত পদের জন্য বাছাই প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ ও কার্যকর শিফট ম্যানেজমেন্ট বজায় রাখাও জরুরি।
এ সংবাদে প্রকৃত সময়সূচি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা বেতন কাঠামো সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ হয়নি; সেসব বিষয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরবর্তী কার্যনির্বাহে নির্ধারিত হবে। তবে স্থানীয়ভাবে এটি সেবা সম্প্রসারণে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।