অপরাধ যশোর যশোর (57)

যশোরে ‘সেনা চাকরি’ প্রতারণা: অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক আটক, চার লাখের চুক্তি অভিযোগ

যশোর সেনানিবাসে অভিযান করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শেখ মোয়াজ্জেম (৬৪)কে আটক করা হয়েছে; তিনি জিডি ট্রেডে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত। মামলা দায়েরকৃত এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

যশোরে ‘সেনা চাকরি’ প্রতারণা: অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক আটক, চার লাখের চুক্তি অভিযোগ
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

ঘটনার সারমর্ম

যশোর সেনানিবাস এলাকায় গত ১৯ আগস্ট একটি পরিকল্পিত তদন্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সদস্যরা একজনকে আটক করেছেন। আটক ব্যক্তির নাম শেখ মোয়াজ্জেম, বয়স ৬৪, তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। অভিযোগ অনুযায়ী তিনি লোকাল আক্রান্তদেরকে সেনাবাহিনীর জিডি ট্রেডে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ৮ লাখ টাকা মূল্যমানের চুক্তি করে নিয়েছিলেন।

আটক ও অভিযোগ

মামলার এজাহার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যশোরের কোটোয়ালি থানায় চাকরিপ্রার্থী তাছফির খান শান্ত বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের ছাত্র অবস্থায় মোয়াজ্জেমের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং মোয়াজ্জেম তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ৮ লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তির প্রতীক হিসেবে একটি ব্ল্যাংক চেক ও তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নেওয়া হয় বলে মামলায় বিবরণ রয়েছে।

সেনানিবাসে অভিযান ও প্রমাণ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে মোয়াজ্জেম শান্ত ও তার চাচাকে সঙ্গে নিয়ে যশোর সেনানিবাসের নিয়োগ মাঠে যান। সেখানে উপস্থিত সেনা সদস্যরা মোয়াজ্জেমকে সন্দেহ করে। মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় তাকে প্রশ্ন করলে মোবাইল থেকে শান্তের ছবি ও মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। পরে শান্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি মোয়াজ্জেমের সঙ্গে চাকরিসংক্রান্ত চুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে মোয়াজ্জেমকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

কী ধরণের প্রতারণা দাবি করা হয়েছে

  • চাকরির নিশ্চয়তা দেখিয়ে নগদ ও ডকুমেন্টপ্রদান: মামলার এজাহারে বলা আছে একটি ব্ল্যাংক চেক ও তিনটি স্ট্যাম্প নেওয়া হয়েছিল।
  • আবেদনকারীকে বৈধ নিয়োগ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে প্রতারণা প্রক্রিয়া: নিয়োগ মাঠে প্রক্রিয়া চালানোর ছলে উপস্থিত করা হয়েছিল।
  • স্থানীয় পরিচিতি কাজে ব্যবহার করা: মোয়াজ্জেম নিয়মিত কালিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে যাতায়াত করতেন এবং সেখান থেকেই পরিচয় গড়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

যশোর সেনানিবাসের গোয়েন্দা শাখা থেকে আটক করার পর কোতোয়ালি থানায় বাদী হিসেবে শান্ত মামলা করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে—বিশেষ করে যারা সামরিক নিয়োগে আবেদন করে থাকেন তাদের মাঝে সতর্কতা বাড়বে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

তথ্যের সারণী

বিষয় বিবরণ
আটক ব্যক্তি শেখ মোয়াজ্জেম (৬৪), অবসরপ্রাপ্ত সেনা
অভিযোগ জিডি ট্রেডে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে ৮ লাখ টাকার চুক্তি
যেখানে আটক যশোর সেনানিবাস, নিয়োগ মাঠ
মামলা দায়ের কোতোয়ালি থানা (বাদী: তাছফির খান শান্ত)
“মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় মোবাইল থেকে শান্তের ছবি ও মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়,”

উক্তিটি মামলার বিবরণ থেকে নেওয়া এবং এতে গোয়েন্দা সদস্যদের সন্দেহাতীত প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রভাব ও সতর্কবার্তা

এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকরির প্রত্যাশা ও আস্থা কমাতে পারে। বিশেষত যারা সামরিক বা সরকারি চাকরির জন্য অর্থ প্রদান বা ডকুমেন্ট সরবরাহের প্রলোভনে পড়ে যেতে পারেন, তাদের জন্য এটি সতর্কতামূলক ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা বলছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রতারণার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে এবং নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

57যশোর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো যশোর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব