যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার সাম্প্রতিক ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং পাঁচ জেলার মধ্যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এইবার শতভাগ ফেল করেছে। বোর্ডের প্রকাশিত ফল থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিসংখ্যান দেখে উদ্বেগ
এইবার যশোর বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৫৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত বছর একই কক্ষে শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ছিল ৭৫টি। অন্যদিকে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১টি—গত বছর ছিল মাত্র দুটি।
| বিষয় | এইবার (২০২৪) | গত বছর |
|---|---|---|
| মোট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান | ২,৫৮১ | উল্লেখ নেই |
| মোট পরীক্ষার্থী | ১,৩২,৯৪০ | উল্লেখ নেই |
| শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান | ৩৬ | ৭৫ |
| শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠান | ১১ | ২ |
শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের তথ্য
যশোর বোর্ড সূত্রে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী এই ১১ প্রতিষ্ঠান হলো—
- যশোর: মণিরামপুরের হেলাচ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (পরীক্ষার্থী ১ জন)
- যশোর: চান্দুয়া সমসকাটি গার্লস হাইস্কুল (৩ জন)
- যশোর: শার্শার সাড়াতলা জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল (২ জন)
- যশোর: শার্শার মুক্তিযোদ্ধা জিকেজিএস সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল (১ জন)
- সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা নাইসা সেকেন্ডারি স্কুল (৭ জন)
- সাতক্ষীরা: গোদারা সেকেন্ডারি স্কুল, আশাশুনি (৪ জন)
- সাতক্ষীরা: বাবুরাবাদ ধাপুখালি সেকেন্ডারি স্কুল, দেবহাটা (৪ জন)
- সাতক্ষীরা: সাহেবখালি সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্যামনগর (৪ জন)
- খুলনা: কাতেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া (৪ জন)
- খুলনা: আসমা সরওয়ার ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয়, খালিশপুর (৪ জন)
- বাগেরহাট: ডি এন একতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শরণখোলা (২ জন)
বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী উপরের পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন। তিনি বুঝিয়ে বলেছেন যে ফলাফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনও বোঝা যায় বোর্ডের রেকর্ড থেকে।
পটভূমি ও প্রভাব
গত কয়েক বছরে যশোর বোর্ডের শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী–নেমে ওঠার ধারা বদলেছে। উদাহরণ হিসেবে বোর্ডের রেকর্ডে দেখা যায় ২০২২ সালে শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১৩টি, ২০২৩ সালে তা দাঁড়ায় ১৯৩টি এবং এবার কেবল ৩৬টি। কেবল সংখ্যাগত পতন নয়, শতভাগ ফেল দেখা চাপের সঙ্গে শিক্ষার মান ও বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় মনোভাব ও অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে—শিক্ষক সাপোর্ট, পাঠ্যক্রমের মান, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও স্থানীয় সামাজিক-আর্থিক বাস্তবতা—এসবের সম্মিলিত প্রভাব প্রতীয়মান। বিশেষ করে গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী সংখ্যা কম হলে কোনো একাদশ-দ্বাদশের এক বা দুই জনের ফল পুরো প্রতিষ্ঠানের হিসেবে প্রতিফলিত হয়ে যায়, ফলে শতভাগ উত্তীর্ণ বা শতভাগ ফেলের সংখ্যায় বৈচিত্র্য দেখা যায়।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও আশঙ্কা
- বোর্ড কর্তৃপক্ষকে স্থানীয়ভাবে দুর্বল প্রমাণিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা সেশন, শিক্ষক উন্নয়নের কর্মশালা ও পরীক্ষামূলক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
- অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষকেই ফল বিশ্লেষণ করে দুর্বল বিষয় নির্ণয় করে তির্যক পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই ফলাফল শিক্ষাগত নীতি ও বাস্তবায়ন কেমন প্রভাব ফেলছে—তাই পরবর্তী সময়ে বোর্ড ও জেলা শিক্ষাবিষয়ক কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা ও উদ্যোগের দিকে নজর রাখা জরুরি।