২০২৬ সালের মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল যখন প্রকাশ করা হয়েছে, তখন যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলাফলকে কেন্দ্র করে উল্লাস ও প্রশ্ন—দুইই দেখা যাচ্ছে। বোর্ড সূত্রে প্রকাশিত চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, এইবারের পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের গড় পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১১,৪৭৮ জন শিক্ষার্থী।
প্রধান ফলের চিত্র
যশোর শিক্ষা বোর্ড জানায়, এবারে মোট ১,৩২,৯৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়েছিলেন। পরীক্ষার্থী সংখ্যা ও উত্তীর্ণদের বিভাগের সারসংক্ষেপ নিচে দেয়া হলো:
| বিষয়/শ্রেণি | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট পরীক্ষার্থী | ১,৩২,৯৪০ |
| উত্তীর্ণ | ৮৮,০৯৭ |
| জিপিএ-৫ | ১১,৪৭৮ |
উত্তীর্ণদের মধ্যে বিভাগভিত্তিক বণ্টন হচ্ছে—বিজ্ঞান: ৩৪,০১৭, মানবিক: ৪৪,৮৩৪, ব্যবসায় শিক্ষা: ৯,২৪৬। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বিভাগভিত্তিক ভাঙন অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগে ৪,৮০৯ জন ছেলে ও ৫,৩২৭ জন মেয়ে, মানবিকে ১৭৯ জন ছেলে ও ৭৯২ জন মেয়ে, ব্যবসায় শিক্ষায় ১৩৯ জন ছেলে ও ২৩২ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
গত বছরের তুলনা ও বোর্ডের বক্তব্য
গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে যশোর বোর্ডের ফলাফল কিছুটা পশ্চাৎগতি দেখায়। ২০২৫ সালে বোর্ডের পাস হার ছিল ৭৩.৬৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫,৪১০ জন শিক্ষার্থী। বোর্ড সচিব অধ্যাপক আব্দুল মতিন সাংবাদিকদের বলেন, উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং বোর্ড অসুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তিনি তুলনামূলকভাবে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকেই ফলহ্রাসের এক কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
“শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং বোর্ড অসুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে,”
তবে তিনি সামগ্রিকভাবে ফলকে সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন। পরীক্ষার সঠিক মূল্যায়ন ও জালিয়াতি প্রতিরোধে বোর্ড যে পদক্ষেপ নেয় তা ফলপ্রকাশের পরও গুরুত্ব বহন করবে।
প্রতিষ্ঠান পর্যায় ও বিভাগীয় ব্যবস্থা
এবারের পরীক্ষায় বোর্ডের অধীনে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটিও শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল মাত্র দুইটি। বোর্ড জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বোর্ড সচিব বলেন, ফলপ্রকাশের পর যেসব প্রতিষ্ঠানে অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা গেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
- মোট পরীক্ষার্থী: ১,৩২,৯৪০
- উত্তীর্ণ: ৮৮,০৯৭
- জিপিএ-৫: ১১,৪৭৮
ছাত্রীদের ফলাফল—মেয়েরা এগিয়ে
ফলাফলে একটি লক্ষণীয় দিক হলো মেয়েদের সামগ্রিক ফল ভালো হওয়া। পরীক্ষার পৃথক প্রকাশনায় যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস.এম. হোসেন আলী জানিয়েছেন, পাস হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী মেয়েরা শিক্ষার বিভিন্ন শাখায় তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে এবং প্রতিটি বিষয়ে মূল্যায়ন সঠিকভাবে হয়েছে বলে তিনি জানান।
“প্রতিটি বিষয়েই এই বোর্ডে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে জিপিএ-৫-ও নারী শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি পেয়েছে,”
প্রফেসর এস.এম. হোসেন আলী আরও উল্লেখ করেছেন, কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেয়া হয়নি এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্রেকক প্রশ্ন
ফলাফল প্রকাশের পর যশোর অঞ্চলের স্কুল-কলেজগুলোতে আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও উঠেছে—কেন গত বছরের তুলনায় পাস হার ও জিপিএ-৫-এ কমতি দেখা দিল, কোন বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়েছে এবং স্কুল পর্যায়ে কী ধরনের কারিগরি ও মানসম্মত পাঠ্যনির্ধারণ প্রয়োজন। বিশেষত ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা কোন ভঙ্গিতে রয়েছে তা নির্ণয় করে পাঠ্যপদ্ধতিতে সংশোধন আনার দাবি উঠছে।
ফলাফলের সাথে সংযুক্ত থাকা সরকারি ও স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে এই প্রশ্নগুলোকে মোকাবেলা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরীক্ষার ফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নীতি, স্থানীয় শিক্ষানীতি ও সরকারি সহায়তার পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে।
ফলাফল প্রকাশের পরে যশোর বোর্ডের শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা ফল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং গবেষণামূলকভাবে দুর্বল বিষয়গুলোর কারণ অনুসন্ধান করে remedial উদ্যোগ নেবে।