গাজীপুর মহানগরীর তুরাগ নদে নৌকায় বসে জুয়া খেলার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কড্ডা এলাকায় নদ থেকে লাশটি উত্তোলন করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওই দিনকার পরিস্থিতি ও উদ্ধারের ধারা
নিহত পরিচিতি পাওয়া গেছে মোয়াজ্জেম হোসেন (৪৫) নামে, তিনি গাজীপুর মহানগরীর খালিশাবর্তা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তুরাগের কাউলতিয়া, কারখানা বাজার ও কড্ডা এলাকায় কয়েক দিন ধরে নৌকায় বসে জুয়া এবং মাদকের আড্ডা চলে আসছিল। পুলিশ বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় অভিযান চালালেও নদীতে ট্রলারে অবস্থান করায় তাদের আটক করা সম্ভব হচ্ছিল না।
সূত্র মতে, গত বুধবার রাতে মোয়াজ্জেমসহ ৪-৫ জন একই ট্রলারে বসে জুয়া খেলছিলেন। অন্য একটি ট্রলার তাদের কাছে এলে ওই ব্যক্তিরা ভেবে ফেলেন এটি পুলিশের দল; এতে আতঙ্কের মধ্যে কয়েক জন নদে ঝাঁপ দেন।
উদ্ধার অভিযান ও পরিবারের দাবি
স্থানীয়রা খবর পেয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করলে পরে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নদে অনুসন্ধান চালায়। দিনভর তল্লাশি সত্ত্বেও মোয়াজ্জেমকে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ভোরে কড্ডা এলাকায় নদে লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা দেখতে পান এবং পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
নিহতের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় ৫-৬ জন লোক তাদের ট্রলার থেকে নামার অনুরোধ করেন এবং নেমে না এলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে চার-পাঁচজনই নদে ঝাঁপ দেন; তিনজন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম আর উঠতে পারেননি।
“ওইদিন ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনো অভিযান চালানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জুয়া খেলছিলেন এবং পুলিশের ভয়ে নদে ঝাঁপ দেন,”
এই বিবৃতি গাজীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলামের বলে সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, তিনজন তীরে উঠতে পেরেও মোয়াজ্জেম উঠতে পারেননি; পরিবারের সদস্যরা বলেন, তিনি ভালো সাঁতার জানতেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
ঘটনাটি কড্ডা ও নিকটবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন বৃদ্ধি করেছে—নৌকে বসে জুয়া ও মাদক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললে সেটা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তদুপরি নিরাপদভাবে নদী ব্যবহারের নিশ্চয়তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের অন্ধকারে নদীর ঘাটগুলো অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে এবং অচেনা ট্রলার-পৌরোহিত্যের কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে।
- নিখোঁজ ও উদ্ধার: বুধবার রাতে নিখোঁজ; শুক্রবার ভোরে লাশ উদ্ধার।
- অবস্থান: কড্ডা এলাকা, তুরাগ নদ, গাজীপুর মহানগর।
- প্রতিক্রিয়া: পরিবার সন্দেহ করে যে উৎকণ্ঠায় বা বাহ্যিক হুমকির কারণে নদে ঝাঁপ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে তৎক্ষণাৎ কোনো অভিযানের তথ্য নেই।
| তারিখ/সময় | ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| বুধবার রাত | মোয়াজ্জেম ও অন্যান্যরা ট্রলারে জুয়া খাচ্ছিলেন; পরে নিখোঁজ হন |
| বৃহস্পতিবার | ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দল দিনের তল্লাশি চালায় |
| শুক্রবার ভোর | কড্ডা এলাকায় নদে লাশ ভেসে উঠলে পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় |
স্থানীয় প্রশাসন ও মুলুকজুড়ে নদী নিরাপত্তা বজায় রাখা প্রয়োজনীয়—বিশেষত যেখানে অবৈধ কার্যকলাপ ঘনঘন ঘটে। মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের সনাক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন করুণ ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, রাতের বেলা নদীর আশপাশে পর্যাপ্ত নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার অভাবে ঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তারা নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার: শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি, WE NEWS