মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি কেন্দ্র করে দলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়া, লাঠিচার্জ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকালে বেশ কয়েকজন আহত হন; আহতদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাও আছেন।
সংঘর্ষের সূত্র ও নেতৃত্ব
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালেই জমজম টাওয়ার এলাকায় মীর সরফত আলী (সপু) নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ উপস্থিত থাকতে থাকে। একই দিন বিকেলে শ্রীনগর স্টেডিয়ামে এক অন্যান্য গ্রুপ—যার সমর্থকরা সাংসদ শেখ আব্দুল্লাহ ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত—কর্মসূচি করার কথা ছিল। পথিমধ্যে দুই গ্রুপের কিছু সদস্য একই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতিতে একরকম সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আহত ও চিকিৎসা
রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে মোট প্রায় ৮-১০ জন আহত হন; পুলিশের একটি সূত্র বলছে আহতের সংখ্যা অন্তত ১০. আহতদের মধ্যে কিছুজনকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তামান্না বিনতে তাহসিন জানান, বেলা ১১টা থেকে ১টার মধ্যে চারজন মাথা ও শরীরে আঘাত নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন; তাদের মধ্যে দুজনকে মাথার জন্য সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
| দল/উপস্থাপিত ব্যক্তি | প্রতিনিধিত্ব |
|---|---|
| মীর সরফত আলীর অনুসারী | জমজম টাওয়ার এলাকায় মিছিল |
| শেখ আব্দুল্লাহ ও হাফিজুলের অনুসারী | শ্রীনগর স্টেডিয়ামে কর্মসূচি |
পুলিশের অভিযোজন ও দাবি
শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকালে মুখে আঘাত পান বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজ (সূত্র: জাগো নিউজ) বলেন, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে; জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে,"
স্থানীয় পরিবেশ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলছেন, যেসব এলাকা থেকে মিছিল রওনা হওয়ার কথা ছিল সেগুলো ঘনবসতিপূর্ণ ও বাজারের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। সংঘর্ষের ফলে আশেপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ও ইটপাটকেল ছোড়ার কারণে আশেপাশের দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা বেড়েছে।
- ঘটনাস্থল: জমজম টাওয়ার ও শ্রীনগর উপজেলার প্রধান সড়ক।
- প্রধান সমস্যা: দলীয় অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও সমন্বয়ের অভাব, জনস্বার্থে সহিংসতা।
- অবশ্য তদন্ত শেষে পুলিস যেসব মতামত দেবে, সেই ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কোনও পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া প্রথম আলোর কাছে বলেছেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে কোনও থানার সদস্য আহত হয়নি; সরকারি সূত্র অনুযায়ী কিছু বেসরকারি সূত্র আহত থাকতে পারে—এই বিষয়ে পৃথক যাচাই-পরিকল্পনা চলছে।
মুন্সিগঞ্জ-১ আসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক গঠনের মধ্যে চলমান অন্তর্জাতীয় সাংঘাতিকতা, কর্মসূচি ও সড়ক নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, সেটি ক্রমশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পুলিশের অনুসন্ধানমুখী পদক্ষেপ কী হবে, তা পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে।