ঘটনার সারসংক্ষেপ ও আলাদাভাবে উদ্ধারকৃত আলামত
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকা-র ১১১ নম্বর বাসায় ঘটানো ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালেই একটি খালি জায়গা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বৃহদাকার ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ছুরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ রয়েছে এবং তা ঘটনাস্থলের রক্তের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তথ্য
এসএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছে হত্যার পর ছুরাটি রায়নগরের একটি খালি জায়গায় ফেলে দেয়া হয়েছিল। পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় খুঁজে না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে সেটি উদ্ধার করে। বাবুল ছুরি সম্পর্কে বলে ছিল এটি ছয়-সাত ইঞ্চি লম্বা এবং কাঠের হ্যান্ডেল রয়েছে বলে—উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত ছুরার বিবরণটিও একই রকম মিলেছে।
স্থানিক আলামত ও পরিস্থিতি
পুলিশ সংবাদে বলা হয়েছে, বাসার বেসিন, হাত ধোয়ার স্থানে এবং একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। হত্যার পর ছুরা ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে এমন ধারণা পুলিশের। বাড়ির বারান্দার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের চিহ্নও পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা ছিল এবং একটি তিন পাতার দলিলসদৃশ কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে—পুলিশ এগুলো থেকে সম্পত্তি বা অন্য কোনো বিরোধের ইঙ্গিত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।
সম্ভাব্য কারণ ও তদন্তের পরিধি
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত বাবুল ও গৃহকর্মী তাহমিনা-এর মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, তাহমিনার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল ছুরি নিয়ে ওই বাসায় গেলে প্রথমে তাহমিনাকে হামলা করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গৃহকর্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও এবং পরে গৃহকর্তা সাত্তার-কে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার পর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে।
তদন্তের চ্যালেঞ্জ ও ফরেনসিক কাজ
তদন্তে একটি বড় বাধা ছিল ঘটনাকালীন সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া না যাওয়া। ফলে পুলিশকে আলামত, জিজ্ঞাসাবাদ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ওপর অধিক নির্ভর করে তদন্ত এগিয়ে নিতে হচ্ছে। ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর জন্য উদ্ধারকৃত ছুরা ও ঘটনাস্থলের রক্তের নমুনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে—এই পরীক্ষার ফল পুলিশকে হত্যায় ব্যবহার করা ছুরাটি ও নিধনকারীর সম্পর্ক নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
পুলিশের তদন্তের বহুনির্দেশ
পুলিশ বলেছে, শুধুমাত্র প্রেমের সম্পর্ক নয়—তারা একই সঙ্গে ডাকাতি, সম্পত্তি বিরোধ ও পারিবারিক কলহসহ অন্য কারণগুলোও অনুসন্ধান করছে। তদন্তে এখনো প্রমাণ মেলেনি যে বাবুল ছাড়াও অন্য কেউ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল কি না।
“জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যার পর ছোরাটি রায়নগরের একটি খালি জায়গায় ফেলে দেয়ার কথা জানান। বুধবার সন্ধ্যায় খুঁজে না পেলেও বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে এটি উদ্ধার করা হয়।”
আলামততালিকা (সংক্ষেপ)
- বৃহদাকার ছুরি — ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগসহ উদ্ধার
- বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের দাগ
- বারান্দার রেলিংয়ে হাত-পার ছাপ ও নিচে রক্তের চিহ্ন
- মাস্টার কেবিনেটগুলো খোলা ও একটি তিন পাতার দলিলসদৃশ কাগজ
| আইটেম | অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|
| ছুরা | কাঠের হ্যান্ডেল, ধাতব অংশে শুকনো রক্ত, ফরেনসিকে প্রেরিত |
| ঘটনাস্থলের রক্ত | বেসিন, ব্যাগ ও বারান্দায় চিহ্নিত; নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে |
| সিসিটিভি ফুটেজ | লোডশেডিংয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ নাই |
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও উত্তেজনা কাটাতে পারেনি। পুলিশের ঘোষিত তথ্য ও ফরেনসিক ফলাফল প্রকাশ না করা পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্পূর্ণ বিবরণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তদন্তে নতুন তথ্য হাতে এলে পুলিশ পরের পদক্ষেপ ঘোষণা করবে।