রাজশাহীর চারঘাটে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের দুইজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন শমসের আলী (৬০) ও তার পুত্রের স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৫)। দুর্ঘটনাটি অনুপমপুর কলোনিপাড়া গ্রামে ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির কাছে বৈদ্যুতিক তারের পার্শ্বে কাপড় শুকানোর জন্য একটি দড়ি বেঁধে রাখা ছিল। ওই দড়িতে ভেজা কাপড় ফেলে শুকাতে গেলে তানিয়া বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পুত্রবধূকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে শমসের আলীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
পাশাপাশি উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
“চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।”
পরিবার ও প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া
নিহতদের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ঘটনার পর গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বরাতে জানা যায়, ক্ষুদ্র পল্লী জীবনযাপনের মধ্যে বৈদ্যুতিক তারের অগোচর অবস্থান ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তারা বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিল্পবহির্ভূত ও খালি বাড়ির পাশের খোলা খণ্ডে এসব কাজ সাধারণভাবে করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের মৌলিক তথ্য
| নাম | বয়স | সম্পর্ক | ঘটনার স্থান | সময় |
|---|---|---|---|---|
| শমসের আলী | ৬০ | শ্বশুর | অনুপমপুর কলোনিপাড়া, চারঘাট | দুপুর ১টা (১৪ আগস্ট) |
| তানিয়া বেগম | ২৫ | পুত্রবধূ | অনুপমপুর কলোনিপাড়া, চারঘাট | দুপুর ১টা (১৪ আগস্ট) |
পুলিশি তথ্য ও অনুসন্ধান
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে এটি দুর্ঘটনাজনিত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট। ঘটনার সঠিক কারণ, বৈদ্যুতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাব বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা তদন্তের পর প্রতিষ্ঠিত হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা বিবেচনা
স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা নতুন নয়; শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলে পরিত্যক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক তার ও অনির্দিষ্ট স্থানে ইনস্টল করা পাতলা তার পড়ে আছে—যা বর্ষা ও আর্দ্রতাসহ মিলিয়ে বিপজ্জনক হতে পারে। অনেক সময় কাপড় শুকানোর মতো সাধারণ কাজও গুরুতর দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।
নিহতদের স্বজনরা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে দ্রুত ধাঁচে ঝুঁকি নির্ণয় করে দূষিত ও ঝাঁকুনি-গ্রস্ত তার সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতনতার আহ্বান
ঘটনা তুলে ধরে এলাকার নাগরিকরা বলছেন, বিদ্যুত্ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা দরকার—বিশেষ করে খোলা জায়গায় কাপড় শুকানো, শিশুদের খেলাধুলার স্থান নির্বাচন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় কমিউনিটির উদ্যোগ গ্রহণ।
- স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত তার চিহ্নিত করে তা সরাতে কাজ করবে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
- প্রতিবেশীরা বলছেন, দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
প্রতি ধরনের বিদ্যুৎনির্ভর কাজ করার সময় স্থানীয়ভাবে উৎসাহী ও প্রশিক্ষিত কারিগরদের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে পরামর্শ দেন। ঘটনাস্থলের তদন্ত শেষে পুলিশ ফৌজদারি নথি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক সুপারিশ জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।