রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, বাখরাবাজ মধ্যপাড়া ও বাখরাবাজ স্কুলপাড়া—এই তিনটি মহল্লায় গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে একটি পোর্টেবল (বহনযোগ্য) ট্রান্সফরমার চালু করার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বাড়ির ইলেকট্রনিকস পুড়ে নষ্ট হয়েছে।
ঘটনার মর্মরুটি
স্থানীয়রা জানান, বাখরাবাজ এলাকার মসজিদের সামনে থাকা ট্রান্সফরমার অকেজো হওয়ার পর নেসকোর (নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি) কর্মীরা সমস্যার তদন্ত করে রাত দুটার সময় একটি পোর্টেবল ট্রান্সফরমার নিয়ে এসে বিদ্যুৎ সেবা পুনরায় চালু করেন। সংযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের সামনে থাকা একটি বাল্ব পুড়ে যায়। নেসকোর কর্মীরা তখনই সংযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। তবুও সেকম্প্রতিক সংযোগ দেওয়ার আগেই তিনটি মহল্লার অনেক বাড়ির ভেতরে থাকা টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র পুড়ে নষ্ট হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা অনশন
পুড়ে যাওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কনকন করে বাইরে এসে নেসকোর কর্মীদের ধরে আটকে রাখেন। কিছু লোক কর্মীদের মারধরও করেন। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
“তিনটি মহল্লার প্রায় সব বাড়ির ইলেকট্রনিক পণ্য পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ জানাতে আমার বাড়িতেই আসছেন। ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।”
এ কথা বলেন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম, যিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিনিধিত্ব করে অভিযোগকারী ও ক্ষতিপূরণের দাবির কথা জানান।
নেসকোর ব্যাখ্যাও ও প্রযুক্তিগত কারণ
নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫–এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল ও প্রাথমিক তদন্তের প্রেক্ষিতে বলেন,
“বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তিনটি লাইনের মাধ্যমে। কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে আনলিমিটেড বিদ্যুৎ যাবে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে। এটা কোনো গ্রাহকের বাড়িতেও হতে পারে, মূল লাইনেও হতে পারে। কোথায় হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ”
তিনি আরও জানান যে এমন অবস্থায় ওভারভোল্টেজ হতে পারে, যা সরাসরি ইলেকট্রনিকস পণ্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিজ্ঞতা
একজন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সানা তার বাড়ির পরিস্থিতি জানিয়ে বলেন, তাঁর বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি ছাড়াও টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসি পুড়ে গেছে। তিনি জানান, নেসকোর কর্মীরা ওভারভল্টেজ চালু করেছিল এবং তাই পোর্টেবল ট্রান্সফরমার চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই পণ্যের ক্ষতি ঘটেছে।
- ঘটনার সময়: গত সোমবার, দিবাগত রাত প্রায় ২টা
- প্রভাবিত এলাকা: বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, বাখরাবাজ মধ্যপাড়া, বাখরাবাজ স্কুলপাড়া
- প্রধান সমস্যাঃ পোর্টেবল ট্রান্সফরমার চালুর সঙ্গে ওভারভল্টেজ ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্ষতি
| আশ্রিত এলাকা | প্রধান ক্ষতিসামগ্রী |
|---|---|
| বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া | বাল্ব, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি (স্থানীয় মন্তব্য অনুযায়ী) |
| বাখরাবাজ মধ্যপাড়া | ইলেকট্রনিকস নির্মাণগত ক্ষতি (স্থানীয়দের অভিযোগ) |
| বাখরাবাজ স্কুলপাড়া | ইলেকট্রনিক পণ্য নষ্ট হওয়ার অভিযোগ |
নির্বাহী প্রকৌশলী অনোয়ার হোসেনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে তিন লাইনের মধ্যে দুটি লাইনের সংযুক্তি ঘটলে নিয়ন্ত্রণহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ (আনলিমিটেড) ঘটতে পারে, যা সরাসরি গ্রাহকের যন্ত্রপাতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি স্থানে কোথায় অ্যালার্ম ঘটেছে বা ঠিক কিভাবে সংযোগের সমস্যাটি ঘটেছে তা স্থির করে বলতে পারেননি।
এই ঘটনায় রাতের অন্ধকারে সরাসরি ক্ষতি ও নারী-পুরুষরা জন-অভিযোগ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ বা আইনগত নোটিশ প্রদান সংক্রান্ত কোনও তথ্য সংবাদ সূত্রে পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা, জরুরি সেবার মান ও ক্ষতিপূরণ দাবি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নেসকো কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ ও তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে, সেটি স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করবে।