রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে ৭ পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডলসহ আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় মিজানের মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে মতিহার থানাতে নেয়া হয়েছে—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পুলিশের রাজনীতি
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিজানের মোড়ে অভিযান চালিয়ে হাসিবকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় তার কাছে পাওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৭ পিস—উৎস ও বিতরণের যে কোনো নেটওয়ার্ক আছে কি না সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে থানা থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। ওসি গোলাম কবির বলেন, ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
রাবি প্রশাসনও বিষয়টি জানে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান। তিনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন যে, দেশের আইন অনুযায়ী মাদক নেওয়া ও ক্রয়-বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রক্টর আরও জানান যে প্রশাসনকে ইতোমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন তারা সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন এবং ছাত্রদল «সবসময় মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে বদ্ধপরিকর»। তিনি বলেন هنوز নিশ্চিত নন যে মাদকটি হাসিবের নিজস্ব ছিল নাকি অন্যদের ছিল; যদি প্রতিষ্ঠিত হয় যে তাদের কোন সদস্য সংগঠনের নামে অসঙ্গত আচরণ করেছে, তবে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি গোলাম কবির: "হাসিব মাদকসহ আটক হয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাবির একটি শাখা নেতার বিরুদ্ধে মাদকসহ আটক করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও অনুকূল পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। শিক্ষার্থীদের মধ্যকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যে কোনো শিক্ষাঙ্গনকে উষ্মার্মপূর্ণ করতে পারে—বিশেষত যখন সেখানে মাদকসামগ্রী জড়িত থাকে। প্রশাসন ও ছাত্রনেতৃবৃন্দের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তদন্তের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যাতে অনভিপ্রেত ছাড়পত্র বা রাজনৈতিক প্রভাব ঘটনা চাপা পড়ে না।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
অবশ্যই এখনো তদন্ত পর্যায়ে বিষয়টি রয়েছে। পুলিশ যদি মাদক ব্যবসায় জড়িত কোনো বড়ো নেটওয়ার্কের সূত্র পায়, তাহলে মামলাটি বিস্তৃত হওয়া সম্ভাব্য। ধরা পরা মাদকদ্রব্যের উৎস, সেই সঙ্গে প্রতারণা বা সহযোগিতার প্রমাণ সংগ্রহ করাটাই তদন্তকারীদের অগ্রাধিকারের কাজ হবে।
তথ্যসারণ ও বিচার-বিফল ঘটলে কী করণীয়
- পড়াশোনা ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যারা রাজনৈতিক নেতা, তাদের ওপর নির্বাচনী ও আচরণগত শৃংখলা প্রয়োগ করা জরুরি।
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে—বিশেষত মাদক ও অপরাধ সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন।
- অভিযোগীর রক্ষায় আইনি বিজ্ঞ পরামর্শ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুততা বজায় রাখা উচিত—যাতে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্মান দুটোই রক্ষিত থাকে।
| নাম | পদবী/সম্পর্ক | প্রতিবেদনিত বক্তব্য |
|---|---|---|
| হাসিব হাসান | রাবি ছাত্রদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (অভিযুক্ত) | মিজানের মোড় থেকে ৭ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ আটক |
| গোলাম কবির | ওসি, মতিহার থানা | অভিযান ও আটক নিশ্চিত—বিস্তারিত পরে জানানো হবে |
| ড. মাহবুবর রহমান | রাবির প্রক্টর | আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা |
| সুলতান আহমেদ রাহী | রাবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি | ঘটনা জানলাম, প্রয়োজন হলে সংগঠন ব্যবস্থা করবে |
বর্তমানে হত্যাকারী বা বড় যোগসাজশের খবর সংবাদে নেই—অর্থাৎ পুলিশ যদি তদন্তে নতুন তথ্য পায় তা পরবর্তীতে জানানো হবে। স্থানীয়ভাবে এই ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ছাত্র অধিকার, অনুশাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তদন্ত শেষে মামলার ধারা ও সরকারী মন্তব্য প্রকাশ পেলে পরবর্তী রিপোর্টে তা বিবৃত করা হবে।
রিপোর্ট: শামীম রেজা, রাজশাহী