সিরাজগঞ্জে সম্প্রতি সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদকে বদলি করে খাদ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। বদলির আদেশ গত রোববার (২৫ অক্টোবর) জারি করা হয় এবং মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা এস এম কায়ছার আলী বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র ও প্রশাসনিক প্রয়োগ
জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে এমসিকিউ বাছাই পরীক্ষা হওয়ার ঠিক আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। প্রচারণা ও সংবাদ প্রকাশের পর থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নাম ওই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উঠে আসে।
বদলির বিষয়ে এস এম কায়ছার আলী সাংবাদিকদের বলেন যে বদলির আদেশ হয়েছে, কিন্তু বদলির কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোফাজ্জল হোসেনও বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুপস্থিতি ও অফিস কার্যক্রম
প্রতিদিনের সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে, বদলির পর থেকেই হারুন অর রশিদ অনিয়মিত অফিস করছেন—সংবাদ প্রচারের পর তিনি অফিসে কম উপস্থিতি ছিলেন। প্রধান সহকারী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৪ অক্টোবর তিনি সর্বশেষ অফিসে উপস্থিত ছিলেন; তার পর ১০ দিন অনুপস্থিত থাকেন। পরে গত রোববার অফিসে এসে মাত্র দুই ঘণ্টা অবস্থান করে এলএসডি গোডাউন পরিদর্শনের কথা বলে চলে যান।
এই ব্যবস্থা ও অনুপস্থিতির তথ্য স্থানীয় কর্মপরিবেশ ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত খাদ্য গুদাম পরিদর্শন ও সরবরাহ শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে।
আইনি পদক্ষেপ এবং গ্রেপ্তার
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্তে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তে অংশগ্রহণ করছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও সিআইডি। তদন্তে সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যার ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তের ভুমিকা আরও জোরদার হয়েছে।
- প্রশ্নপত্র ফাঁসের তারিখ: ১০ অক্টোবর (পরীক্ষা স্থগিত)
- হারুন অর রশিদের অনুপস্থিতি: ১৪ অক্টোবর থেকে প্রায় ১০ দিন অনুপস্থিতি
- বদলির আদেশ: ২৫ অক্টোবর
- বদলি নিশ্চিতকরণ: ২৬ অক্টোবর
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী বদলির পর এলাকায় অচলাভাব ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি পদে নিয়োগের পরীক্ষা দুর্নীতিহীন ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা হলে জেলার যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও সরকারি কাজে আস্থা বাড়ে। সেইজন্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় কর্মীদের কথায়, অফিস কার্যক্রমে নিয়ম-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না হলে দুর্নীতির অভিযোগ, অনুপস্থিতি ও তদবিরের পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
ঘটনাটির সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১০ অক্টোবর | সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের এমসিকিউ বাছাই পরীক্ষা; প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত |
| ১৪ অক্টোবর | হারুন অর রশিদের সর্বশেষ অফিসে উপস্থিতি (এরপর অপ্রাপ্তি) |
| ২৫ অক্টোবর | হারুন অর রশিদকে বদলি করে খাদ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ |
| ২৬ অক্টোবর | রাজশাহী বিভাগীয় কর্মকর্তা বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন; মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ পায় |
উপসংহার
সিরাজগঞ্জে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জেলা পর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তার বদলি এবং তদন্তমূলক গ্রেপ্তারহীনতাটি স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগের তীব্রতা ও তদন্ত কমিটির কাজের ফলাফল সরকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সদর দফতর ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরো দায়িত্ব নির্ধারণ করলে এ ঘটনার সত্যতা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।