সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় বাঘুটিয়া ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় সাড়ে সাত মেট্রিক টন ত্রাণের চালের হদিস নেই বলে জানতে পেরেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
কি ঘটেছে?
সূত্র জানায়, ওই দুই ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত চালগুলো এলাকায় বিতরণের উদ্দেশ্যে ইউপি পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য মাথাপিছু ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে চাল বিতরণ না হওয়ায় স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন কেন ত্রাণ পৌঁছায়নি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জিআরের চাল গোডাউনে সংরক্ষিত নেই। তবুও স্থানীয় একটি স্কুল কক্ষে ৫২০ বস্তা চাল পাওয়া গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাওয়া চালের মধ্যেও ৮০ বস্তা চালের ঠিকঠাক হদিস মেলেনি বলে প্রশাসনের বক্তব্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, "উক্ত জিআরের চাল গোডাউনে সংরক্ষিত নেই। তবে ৫২০ বস্তা চাল স্থানীয় একটি স্কুলের কক্ষে থাকলেও ৮০ বস্তা চালের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।"
স্থানীয়দের আপত্তি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে ইউপি কর্তৃপক্ষ চালগুলো নিয়ে মজুদ রেখে বিতরণ না করেই রাখতে পারে। অভিযোগে বলা হচ্ছে পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত বিতরণ না হলে ক্ষতিগ্রস্তরা আরও দুর্ভোগের মধ্যে পড়বেন।
ইউএনওর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনার পর ওই দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান "গা ঢাকা দিয়েছেন"। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা সাধারণত দ্রুত ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হন। নির্ধারিত অনুদান না পৌঁছালে তাদের জীবন-জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া স্থগিত হবে। এছাড়া বিতরণে গড়বড় হলে স্থানীয় বিদ্বেষ ও প্রশাসনিক আস্থাহানি সৃষ্টি হতে পারে।
- বরাদ্দের পরিমাণ: প্রায় সাড়ে সাত মেট্রিক টন চাল (উৎস হিসেবে দেখানো)।
- মোট পাওয়া চাল: ৫২০ বস্তা, তবে ৮০ বস্তার হদিস নেই।
- প্রত্যাশিত বিতরণ: মাথাপিছু ৩০ কেজি করে বিতরণ করা হওয়ার কথা ছিল।
প্রশাসনের বলার কথা ও সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ দিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, উপযুক্ত নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরণের ঘটনায় সাধারণত যে পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা হয় সেগুলো হলো:
| সম্ভাব্য পদক্ষেপ | উদ্দেশ্য |
|---|---|
| ফেরত জিজ্ঞাসাবাদ ও হিসাব যাচাই | ত্রাণের provenance এবং হস্তান্তর চেইন নিশ্চিত করা |
| আইনানুগ তদন্ত | অবহেলা বা অনিয়ম থাকলে দায়শীলদের শনাক্তকরণ |
| ত্রাণ দ্রুত পুনর্বণ্টন | ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহযোগিতা সরবরাহ |
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত বা নামবলে কোনো ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং তারা যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
সমাপ্তি ও পাঠক-দিশা
ত্রাণসামগ্রীর অনুপস্থিতি ও হস্তান্তরের অস্বচ্ছতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপযুক্ত সহায়তা নিরাপদ করা সম্ভব। তদন্তে কোনরকম অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে ত্রাণ প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়।