সিরাজগঞ্জের সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কর্মরত প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস (৮২) আর নেই। শুক্রবার ভোররাতে সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
মরহুম এক মাসের বেশি সময় ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় শয্যাশায়ী ছিলেন। পরিবারের বরাত দিয়ে তাঁর ভাতিজি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসা ও শেষ দিনগুলো
পরিবারের দেওয়া তথ্যানুযায়ি, গত ১৭ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মরহুমকে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। পরে কিছুটা সুস্থতা হলে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়।
তবে এরপরও বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে এক মাস আট দিন শয্যাশায়ী থাকার পর শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান। বয়স্ক রোগী হিসেবে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকায় পরিবারের সদস্যরা, বন্ধু ও সহকর্মীরা হাসপাতালে এবং বাড়িতে তাকে সময় দেন বলে জানা গেছে।
জানাজা ও দাফন
মরহুমের জানাজা শুক্রবার বিকালে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মালশাপাড়া কবরস্থান মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় সংবাদকর্মী মহলের উপস্থিতিতে শেষ যাত্রা সম্পন্ন হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | আব্দুল কুদ্দুস |
| বয়স | ৮২ বছর |
| চাকরি | দৈনিক সংবাদের বার্তা পরিবেশক |
| ভর্তির স্থান | খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনায়েতপুর |
| জানাজা ও দাফন | মালশাপাড়া কবরস্থান মসজিদ, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকা |
পেশাগত জীবন ও পরিবার
মরহুম সাংবাদিকতা শুরু করেন দৈনিক সংবাদের বার্তা পরিবেশক হিসেবে এবং মৃত্যু পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা স্থানীয় সাংবাদিকসমাজে তাঁর অবস্থানকে দৃঢ় করেছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি রেখে গেছেন এক কন্যা, নাতি, ভাই, ভাতিজা-ভাতিজিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী। সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সমাজের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মাত-বেচাকেনা এবং বৃত্তগত সম্পর্কের কারণে সংবাদজগত ও সমাজে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও দোয়ার ঢেউ দেখা গেছে।
প্রতিক্রিয়া
সিরাজগঞ্জের সংবাদকর্মীরা মরহুমকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন। সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান, সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম (ইন্না), সহসাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান (রাজু)সহ বিভিন্ন সাংবাদিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতারা পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
- স্থানীয় সাংবাদিক মহল তাকে নিয়মিত সংবাদ সরবরাহকারী ও সম্মানিত সহকর্মী হিসেবে জানতেন।
- অনেকেই তাকে সাংবাদিকতার সময়ের স্মৃতি ও স্থানীয় গণমাধ্যমে তার দীর্ঘসারথি হিসেবে স্মরণ করেছেন।
- পরিবারশ্রেণী এবং স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, শেষকৃত্যে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রভাব
প্রবীণ সাংবাদিকের ইন্তেকাল স্থানীয় সংবাদপরিবেশে শূন্যতা তৈরি করেছে। দৈনিক সংবাদের মতো স্থানীয় পত্রিকায় বহু বছর সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি সমাজের নানা খবর আর জনগণের সহায়তা নিশ্চিত করেছিলেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদকর্মীদের মধ্যে শোক ও নীরবার ভাব সৃষ্টি করেছে।
পরিবার এবং প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোকাকুল পরিবারকে সময়েই গণমাধ্যম ও সামাজিক নেতারা সহায়তা করেছেন এবং স্থানীয়ভাবে মরহুমের পরিবারের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের সাংবাদিকবৃন্দ ও যারা তাকে চেনেন, তারা খন্ডকালীন স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেছেন। এলাকার গণমাধ্যমে দীর্ঘকাল কাজ করা একজন পেশাজীবীর বিদাহে স্থানীয় গণসংযোগ ও সংবাদ পরিবেশনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হবে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।