সিরাজগঞ্জ সংবাদপত্র জগতের পরিচিত মুখ এবং প্রবীণ সাংবাদিক হিসেবে বিবেচিত আব্দুল কুদ্দুস (বয়স ৮২) শুক্রবার ভোরে শহরের মুজিব সড়কের নিজের বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন এবং গত ১৭ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। কিছুদিন চিকিৎসা চলার পরে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও এক মাসেরও বেশি সময় শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি।
জানাজার আয়োজন ও দাফনের বিবরণ
মরহুমের ভাতিজি ও রবীন্দ্রবিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল জানান, একই দিন বাদ জুমা পৌর মালশাপাড়া কবরস্থান মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি এক মেয়ে, অনাগত আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন।
সাংবাদিকতায় অবদানের পরিমাপ
আব্দুল কুদ্দুস সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তার প্রায় ৫০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি স্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্রে বার্তা পরিবেশক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রাজ্জ্বলিত এক অভিভাবকশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য হন। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, তিনি সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন।
- পদবি: সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক
- পেশা: দৈনিক সংবাদপত্রে বার্তা পরিবেশক
- সাংবাদিকতা জীবন: প্রায় ৫০ বছর
সহকর্মীদের স্মৃতি ও ব্যক্তিগত সংযোগ
সিরাজগঞ্জ শহরের স্থানীয় সংবাদপত্র কলম সৈনিক পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল হামিদ বলেন, আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন একটি সময়ের সাংবাদিক সমাজের অভিভাবক; তার শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, মরহুমের জীবন সততা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক ছিল।
“জেলায় কোনো ঘটনা ঘটলেই আব্দুল কুদ্দুস কাকা আমাকে ফোন দিয়ে বলতেন, ‘বাবাজী, কেমন আছো? আজকে কিছু আছে?’ তার এই আন্তরিক প্রশ্নের মধ্যেই ছিল একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের দায়িত্ববোধ এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ।”
উক্ত কথাগুলো রাইজিংবিডির সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি অদিত্য রাসেলের স্মৃতিচারণ থেকে নেওয়া। অদিত্য বলেন, আব্দুল কুদ্দুস নবীন সাংবাদিকদের পথপ্রদর্শক ছিলেন এবং তার কাছ থেকে অনেককিছু শেখার সুযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে প্রভাব
সাংবাদিক সমাজে তার হারানোকে কেউ ক্ষতিপূরণযোগ্য মনে করছেন না। সহকর্মীরা বলছেন, তিনি নানা সময় ছোটদের উৎসাহ দিয়েছেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাগজপত্র যোগাযোগের কাজ দেখেছেন এবং স্থানীয় সংবাদ পরিবেশে একটি স্থায়ী বিশ্বাসযোগ্যতা গড়েছেন। তার মৃত্যু সংবাদপত্র অঙ্গনে একটি গুণী মূল্যবোধের অবসান বলে মনে করা হচ্ছে।
| ঘটনার ধাপ | তারিখ/বিবরণ |
|---|---|
| হাসপাতালে ভর্তি | ১৭ আগস্ট — খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ, এনায়েতপুর |
| বাড়িতে নিলে শয্যাশায়ী | এক মাসেরও বেশি সময় শয্যাশায়ী ছিলেন |
| মৃত্যু | ২৫ সেপ্টেম্বর (ভোর) — মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ শহর |
| জানাজা ও দাফন | ২৫ সেপ্টেম্বর, বাদ জুমা — পৌর মালশাপাড়া কবরস্থান মসজিদ |
সামান্য হলেও তার আত্মত্যাগ ও অনবদ্য কাজ স্থানীয় গণমাধ্যমকে নতুন প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশ দিয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেকের কাছে তিনি ছিলেন মেন্টর।
পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও শ্রদ্ধা
মরহুমের পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, আজকের জানাজা শেষে বহু পুরানো সহকর্মী ও সাংবাদিকরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। স্থানীয়ভাবে কাগজে কাজ করা সহকর্মীরা শোকসূচক বক্তব্য প্রদান করবেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং তার পথচলায় থাকা নৈতিকতা ও পেশাগত অঙ্গীকার স্মরণ করে তা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।