সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সীমান্তবাজার এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলিসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম জানান গেছে—নাসিম হোসেন (৩০), তিনি সদর উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
চেকপোস্টে তল্লাশি, পেছনে থাকা আরোহী পালালে গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ সোমবার দুপুরে সদর থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কাজিপুর থানা পুলিশ রোববার রাতে সীমান্তবাজার এলাকায় মাদকদ্রব্য, অস্ত্র উদ্ধার ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে চেকপোস্ট স্থাপন করে বিভিন্ন যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহে তল্লাশি চালায়।
“রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কাজিপুর থানা পুলিশ সীমান্তবাজার এলাকায় মাদকদ্রব্য, অস্ত্র উদ্ধার ও ওয়ারেন্টের আসামীদের গ্রেপ্তার করতে চেকপোস্ট স্থাপন করে বিভিন্ন যানবাহন ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের দেহে তল্লাশি চালায়। রাত ১টার দিকে দুজন আরোহীসহ একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে পেছনের আরোহী দ্রুত মোটর সাইকেল থেকে লাফ দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।”
একদিনের অনুসরণে পেছনে থাকা আরোহী পালিয়ে গেলেও অপর আরোহী নাসিমকে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় তার কোমরে থেকে একটি রিভলবার এবং ম্যাগজিনে ভর্তি তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের হাতে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে—এটি ছিল ইয়ামাহা কোম্পানির এফজেড মডেলের মোটরসাইকেল।
আইনি ব্যবস্থা ও তদন্ত অব্যাহত
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কাজিপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ও গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৭৮-এর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে—সংবাদ সম্মেলনে মামলা নম্বর বা আরও বিস্তারিত ধারা আরেকটু স্পষ্ট করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান এবং কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক। পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে।
- গ্রেপ্তার: নাসিম হোসেন, ৩০ বছর
- জায়গা: কাজিপুর থানা এলাকা, সীমান্তবাজার
- জব্দকৃত সামগ্রী: ১টি রিভলবার, ৩ রাউন্ড গুলি, ১টি ইয়ামাহা এফজেড মোটরসাইকেল
- প্রাসঙ্গিক পুলিশ কর্মকর্তা: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ
জেলার নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রভাব
সিরাজগঞ্জ গুরুত্বপূর্ন আন্তজেলা ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় এই ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায়। সীমান্তবাজার এলাকায় চেকপোস্ট ও তল্লাশির মাধ্যমেই পুলিশ নিয়মিতভাবে অপরাধ দমন ও অবৈধ দ্রব্য সনাক্তে কাজ করছে—সূত্ররা বলছেন, রাতে চালানো রুটিন তল্লাশি ও চেকপোস্ট অভিযান এখানকার অপরাধী ও পাচার প্রবণতা কমাতে সহায়ক।
তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক আরোহী এখনও গ্রেপ্তার نشده; অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত নাসিম সম্পর্কে কি কোনো পূর্বরেকর্ড বা বাহক-চক্র রয়েছে—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। স্থানীয় আদালতে প্রেরণের পূর্ববর্তী প্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সংবাদে জানানো হবে।
| আইটেম | পরিমাণ |
|---|---|
| রিভলবার | ১ |
| রাউনড গুলি | ৩ |
| মোটরসাইকেল (ইউজার) | ১ (ইয়ামাহা এফজেড) |
এই ঘটনার তদন্ত ও পলাতক আসামীর খোঁজে কাজিপুর থানা এবং সদর সার্কেলের পুলিশ কাজ চালিয়ে যাবে—স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত সত্য উঠে আসবে এবং অপরাধী চক্র শনাক্ত করে দমন করা হবে।