কishোরগঞ্জ—মহাখালী রুটে চলাচল ফের, যাত্রীদের আস্থা আংশিকভাবে ফিরেছে
কিশোরগঞ্জ ও মহাখালী বাস টার্মিনালের পরিবহন মালিকদের মধ্যে বিরোধের কারণে রবিবার (২৫ অক্টোবর) বন্ধ থাকা কিশোরগঞ্জ-ঢাকা (মহাখালী) রুটে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই অনন্যা, অনন্যা ক্লাসিক, উজানভাটি ও জলসিঁড়ি পরিবহনের বাস গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করে।
রোববার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে যাওয়া স্কুল-কলেজ, অফিস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যাত্রীদের মধ্যে বিশাল কষ্টের সৃষ্টি হয়। অনেকে বাস পরিবর্তে ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার ভোর থেকে পুনরায় চলাচল শুরু হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আংশিকভাবে লাঘব হয়েছে, তবে এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান কবে হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
কেন বন্ধ হয়েছিল — মালিকদের অবস্থান
জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর রেজা মুরাদ জানিয়েছেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ঢাকার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত যে বাসগুলো দেওয়া হয়েছিল সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং অব পূর্বের বাসগুলোই চলবে। এ কারণেই সোমবার থেকে পুনরায় চলাচল শুরু হয়েছে।
"ঢাকার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত যে বাসগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এখন আগের বাসগুলোই চলবে,"
অপরদিকে রবিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুল বলেছিলেন, মহাখালী এলাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ চলছিল। পুরোনো বাস সরবরাহ ও কাউন্টার বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে এ সংঘাত তীব্র হয়েছে।
যাত্রী ও আন্তর্ব্যবস্থাপনা প্রভাব
রোববার গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত অনেক যাত্রী দেখেন যে নির্দিষ্ট ৪টি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসগুলো হলো—
- অনন্যা পরিবহন — ৫০টি বাস (বিবরণ সূত্রে উল্লেখিত)
- অনন্যা ক্লাসিক — ৫৭টি বাস
- জলসিঁড়ি — ১০০টি বাস
- উজানভাটি — ৩০টি বাস
সব মিলিয়ে ওই রুটে মোট ২৩৭টি বাস চলাচল বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। একদিন বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভাড়া-বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গাজীপুর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের নিয়েও অভিযোগ ওঠে—কিছু পরিবহন মহাখালী পর্যন্ত ভাড়া ধার্য থাকা সত্ত্বেও গাজীপুর পর্যন্ত ভাড়া বেশি নেওয়ার ঘটনাও জানা গেছে।
| পরিবহন | বন্দ থাকা বাস (সূত্র) |
|---|---|
| অনন্যা | ৫০ |
| অনন্যা ক্লাসিক | ৫৭ |
| জলসিঁড়ি | ১০০ |
| উজানভাটি | ৩০ |
| মোট | ২৩৭ |
যাত্রীদের অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে—কাউন্টারে বাস বন্ধ রেখে কিছু পরিবহন গাজীপুর পর্যন্ত যাত্রী নিচ্ছে এবং অধিক ভাড়া আদায় করছে। এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজনই ট্রেন বা বিকল্প পথে সরে যান।
পরবর্তী করণীয় ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট
পরিবহন মালিকদের মধ্যে বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি কেমন হবে, তা এখন কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করছে। রুটটি কিশোরগঞ্জ-ঢাকা যোগাযোগের একটি প্রধান সড়কভিত্তিক সংযোগ। এখানে দীর্ঘকাল অনিয়ম বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলে স্থানীয় অর্থ–চলাচল ও কর্মজীবীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ে।
স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন মালিকদের মধ্যে সুচিন্তিত আলোচনার প্রয়োজন, যাতে ভোগান্তি লাঘব হওয়ার সাথে সাথে ভাড়াবৃদ্ধি, অতিরিক্ত বাস চালানো বা কাউন্টার নীতিমালা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব নিরসন করা যায়। মঙ্গলবারের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত এই রুটের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টার: সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/কিশোরগঞ্জ