কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট ঘটে; ঘটনার পর সেই ঘটনায় প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও পুলিশি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোবাইল আর্থিক সেবায় ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।
ঘটনা ও অভিযোগের সারমর্ম
সংবাদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর সকালে কমলপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পত্রিকায় বলা হয়েছে, বেলা প্রায় ১১টায় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখলের চেষ্টা হয় এবং সেখানে ভাঙচুর-লুটপাট সংঘটিত হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয়; পরে পুলিশ এসে রাস্তার পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।
এরপর, অভিযোগ অনুযায়ী, বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে মুর্শেদ মিয়ার নম্বর থেকে ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর (০১৭১২৬৩৭৪১৮) থেকে টাকা পাঠানো হয়—লেনদেনের পরিমাণ ৩০ হাজার এবং লেনদেন শনাক্তকরণ নম্বর হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ‘ডিজে৩২সিপিবি৪০০’।
ভুক্তভোগী ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নাম উল্লেখযোগ্য—মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমান। তারা বলেন, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয় নিয়ে থানায় ফোন করে পুলিশকে জানানোর পরও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। এক সপ্তাহ ধরে থানায় যাওয়ার পরও মামলা নেওয়া না হওয়ায় পরে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানকে ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে সংবাদে উল্লেখ আছে। ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অবু মুছা শেখ সংবাদদাতাকে বলেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে বিকাশের স্টেটমেন্ট এনে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যদি ওসির নম্বরে ঘুষের লেনদেন পাওয়া যায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
“ঘটনাটি শুনেছি, বিকাশে টাকা লেনদেন হয়েছে। যদি অভিযোগ আসে, তখন বিকাশ কল সেন্টার থেকে স্টেটমেন্ট এনে যাচাই-বাছাই করে যদি ওসির নম্বরে ঘুষের লেনদেন পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করব।” — অবু মুছা শেখ, সহকারী পুলিশ সুপার, ভৈরব সার্কেল
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন যে, পুলিশের তৎপরতার বিলম্ব ও কোনো ধরনের তদবির ঘটলে সাধারণ নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্তদের আইনগত পথ অবলম্বন করলেও, স্থানীয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর এমন অভিযোগ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- আবস্থা: ভুক্তভোগীরা পরে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করেছেন।
- প্রমাণ: বিকাশ লেনদেনের তথ্য ও লেনদেন শনাক্তকরণ নম্বর (ডিজে৩২সিপিবি৪০০) সংবাদে উল্লেখিত।
- পুলিশ প্রতিক্রিয়া: সার্কেল স্তরে বিষয়টি তারা শুনেছেন; স্টেটমেন্ট যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ | সময় | ঘটনা |
|---|---|---|
| ৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রায় ১১:০০ | কমলপুর এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা; ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা |
| ৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রায় ১২:০০ (পুলিশ পৌঁছাতে লোড) | পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয় |
| ৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:১২ | মুর্শেদ মিয়ার নম্বর থেকে ওসির বিকাশে ৩০,০০০ টাকা পাঠানোর তথ্য (লেনদেন শনাক্তকরণ নম্বর: ডিজে৩২সিপিবি৪০০) |
| প্রকাশিত | ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ভুক্তভোগীরা পরে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন এবং খবর প্রকাশিত হয় |
এ ঘটনার পর ভৈরব উপজেলার সামাজিক অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও দ্রুত ফলাফল জনসাধারণের আস্থা ফেরাতে জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি বিকাশ স্টেটমেন্ট ও অন্যান্য প্রমাণাদি যাচাই করে সুস্পষ্ট সাক্ষ্য পান, তাহলে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের আশা করা হচ্ছে।