ফেনীতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৫ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার পর জেলা এবং মহাসড়ক এলাকায় যানবাহন চলাচলক্ষণিক ব্যাহত হয় এবং উদ্ধারকাজের জন্য পুলিশ ও উদ্ধারতরী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
দুই স্থানেও সংঘর্ষ, ঘটনাচক্র
দুর্ঘটনাটা জেলা সদর ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মহাসড়ক অংশে ঘটেছে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মুহুরীগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি কাভার্ডভ্যান বিকল হয়ে লেন জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে অপর একটি লং ভেহিক্যালের সঙ্গে কাভার্ডভ্যানটি পেছন থেকে বেঁধে সরানোর চেষ্টা করছিলেন চালক ও হেলপার। এ সময় চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ওই স্থানে পৌঁছালে সংঘর্ষ ঘটে।
পরে মহিপাল এলাকায় আরও একটি পৃথক ঘটনায় একটি কাভার্ডভ্যানে পেছন থেকে ধাক্কা লাগার ফলে সেখানে থাকা এক যাত্রী গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান।
নিহত ও আহতদের পরিচয় ও চিকিৎসা
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু নোমান ফেনী সংবাদকর্মীদের জানান, পৃথক দুই ঘটনা মিলিয়ে মোট পাঁচজন মারা গেছেন এবং আটজন আহত হয়েছেন। প্রথম ঘটনায় কাভার্ডভ্যান চালক, হেলপার ও বাসচালককে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতালে পাঠানো অন্য এক লং ভেহিক্যাল চালকও মৃত্যুবরণ করেন।
পুলিশের হাতে যা-যা নিশ্চিত পরিচয় পাওয়া গেছে, সেগুলো হল:
- কাভার্ডভ্যান চালক: আব্দুর রহিম (৫০), বটবাজার মৈজ্জারটেক, চট্টগ্রাম (সুত্রে উল্লেখিত)
- বাস চালক: আবুল হোসেন (৬২), পারগেন্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ
- ইউনিক গাড়ির হেলপার: শামীম (৫৫), গোসাইলডাঙ্গা, শৈলকূপা, ঝিনাইদহ
- মহিপালের ঘটনায় নিহত যাত্রী: তাবারক আলী ফটিক (৫৬), জয়নন্দীপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর
- অরেফের লং ভেহিক্যাল চালকের নাম ঘটনাস্থলে জানা যায়নি; তিনি পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বা সেখানে মারা যান
অহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক বলে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার জানান। তাদের মধ্যে কেহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
রেসকিউ ও আইনানুগ ব্যবস্থা
দু’টি ঘটনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস‑সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে। দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা দুর্ঘটনাগুলোর কারণ তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং প্রচ্ছন্ন তত্ত্বাবধানের কাজ চলছে।
স্থানীয় প্রভাব ও জনস্বার্থ
আগামীকালকালীন এমন দুর্ঘটনা জেলার মহাসড়ক অধ্যবসায়করা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট; এ রুটে ভোরবেলা ও রাতভর মানুষ যাতায়াত করে, ফলে দুর্ঘটনার প্রভাব জেলায় ব্যাপক। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্কুল-কলেজেও সকালে জটিলতা দেখা দেয় যা পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রতিরোধ ও সাবধানতার পরামর্শ
এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য নিরাপদ গতি, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক পার্কিং স্থল নির্বাচন ও জরুরি অবস্থায় সিগন্যাল দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জরুরি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা যান দ্রুত সাইডে সরানো এবং ধীরগতিতে চলাচল করলে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যেতে পারত।
| বিষয় | সংখ্যা/তথ্য |
|---|---|
| মোট নিহত | ৫ জন |
| মোট আহত | ৮ জন |
| প্রাথমিক ঘটনাস্থল | মুহুরীগঞ্জ, দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন |
| নামজাদ ব্যক্তিরা | আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন, শামীম, তাবারক আলী ফটিক (সংশ্লিষ্ট জেলার পরিচিত) |
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার আওতাধীন এই অংশে সড়ক পরিবহন ও জনগণের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত চলমান; ঘটনার আনুষঙ্গিক তথ্য এবং আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত আপডেট পাওয়া হলে পরবর্তীতে তা জানানো হবে।
রিপোর্ট: আবদুল হালিম, ফেনী প্রতিনিধি, WE NEWS