ফেনী জেলা শহরের ও আশেপাশের সরকারি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে দুই নির্মাণ ঠিকাদার একই ব্যক্তি—জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ-এর বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুইটি মামলা করেছেন। অভিযোগের পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাগুলো এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
কী অভিযোগ করা হয়েছে
বাদী হিসেবে মামলায় নাম করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতুল এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান রতন দাবি করেছেন, ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় কর্তৃপক্ষের অঙ্কিত দুইটি সড়কের নির্মাণকাজ চলাকালীন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তার দাবি, মোট প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকা-মূল্যের কাজের বিপরীতে ৫-৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগ, চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না ও হুমকি দেয়া হবে। বর্তমানে ওই সড়কের কাজ স্থগিত রয়েছে, বলে রতন জানান।
আরেক মামলায় স্বপন নামে স্থানীয় একজন ঠিকাদারি ব্যবসায়ী—এনায়েত উল্যাহ স্বপন—ও একই ধরনের অভিযোগ এনেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় ঠিকাদারি কাজের জন্য তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে; চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং কাজের সরঞ্জাম নেওয়ার সময়ও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। স্বপনের আরও অভিযোগ, কাজের সিডিউল কেনার সময় ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে মাসুদের সঙ্গে তর্ক হয়; পরে তাকে গালাগালি করা হয়, মারধরের চেষ্টা এবং হাত কেটে ফেলার হুমকির কথাও বলা হয়েছে।
“অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের অংশ,”
অভিযোগ প্রাবল্যতা পাওয়ার পর জামিন-সংক্রান্ত পছন্দ, তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কামরুল হাসান মাসুদ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন মনে করেন এই মামলাগুলো ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
স্থানীয় ঠিকাদাররা বলছেন, কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কর্ম ও উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি বন্ধ থাকায় ইউনিয়ন-গ্রামের জনগণের চলাচল ও যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটেছে। বরাবরের মতোই এমন অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- অভিযোগকারী সাইফুর রহমান রতন: রাতুল এন্টারপ্রাইজের মালিক; দুইটি সড়কের কাজ বন্ধ।
- অভিযোগকারি এনায়েত উল্যাহ স্বপন: হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারি; চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনা অভিযোগ যোগ্য।
- অভিযুক্ত: জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ—সব অভিযোগ অস্বীকার।
| বিষয় | দাবি/অবস্থা |
|---|---|
| প্রকল্পের মোট মূল্য | প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকা (দুইটি সড়ক) |
| চাঁদা দাবির হার | ৫-৭ শতাংশ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ |
| আইনি ব্যবস্থা | দুইটি পৃথক মামলা; সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এমসজে রেকর্ড ও মডেল থানাকে এফআইআর করার নির্দেশ |
স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদারি কাজের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব প্রতিরোধ করতে নির্মাণ প্রশাসন ও ডিজিএফআই অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে চলমান সরকারী উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে তা অঞ্চলের অর্থনীতি ও সাধারণ জনস্বাস্থ্য দুটোই সুবিধা পাবে।
ফেনী মডেল থানা ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মামলাগুলো নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন—তবে তদন্তের ধরণ, সাক্ষ্যগ্রহণ ও অভিযোগপত্র যাচাই শেষে যে পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা আইনের দিক থেকে নির্ধারিত হবে। স্থানীয় ঠিকাদার সমাজ ও ব্যবসায়ীরা আশা করেন দ্রুত ও ন্যায্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীকে চিহ্নিত করা হবে এবং প্রকল্প কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনার সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রতিরোধে শান্তি রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিপোর্ট: ফেনী থেকে প্রেরিত