ফেনী জেলায় সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১ অক্টোবর জেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সফরের রুটে রয়েছে পরশুরাম উপজেলা ও ফুলগাজীর বিভিন্ন স্থান; সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি তুঙ্গে রয়েছে।
সফরের কর্মসূচি ও স্থানসমূহ
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সফরের শুরুর অংশে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে। এই প্রকল্পে বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ ও নদী-জলাধার পুনঃখননসহ বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে; প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা.
এর পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর শ্রীপুরে নানার বাড়ি পরিদর্শন করবেন এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন। সফরের শেষপর্বে তিনি ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সফর ঘিরে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সড়ক মেরামত, সভাস্থল প্রস্তুতকরণ এবং আশপাশের এলাকা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে এবং নিরাপত্তা-প্রশাসন অংশে বিভিন্ন প্রস্তুতি তদারকি করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও দলীয় প্রত্যাশা
স্থানীয়রা সফরকে সুযোগ জানিয়ে প্রশাসন এবং সরকারকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরার ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে। জেলা বিএনপি এক প্রস্তুতি সভা করেছে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর সামনে জেলা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বড় দাবির বিষয় তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখযোগ্য দাবি:
- ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যে উন্নীতকরণ
- ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর দাবি
- জেলায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা
ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ ১৯৯৩ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল; স্থানীয়রা মনে করেন, এটি পুনঃসূচনা হলে জেলার উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সহজতা বাড়বে।
প্রকল্পের গুরুত্ব ও প্রত্যাশিত সুফল
মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীতীর রক্ষা, বন্যা ঝুঁকি হ্রাস ও কৃষি-আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে—এমনটাই স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রকৌশলী পর্যায় থেকে আশা করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন ও দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় রেখে প্রকল্পটির আওতায় নদী ও জলাধারের পুনরুদ্ধার কাজ করা হবে, যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সফর ঘিরে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি
সফরের দিন জনসমাবেশ পরিচালনা, সড়কপথে যানজট ও নিরাপত্তা বিধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন অফিস-আদালত ও বেসরকারি সংগঠনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় নেতারা বলেছেন যে, সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকল পক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।
ফেনীবাসীর প্রত্যাশা ও প্রশ্ন
সফরকে কেন্দ্র করে মানুষ আশা রাখছেন দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোতে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পাবেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চশিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়রা আগ্রহী। একই সঙ্গে প্রশ্ন রয়েছে—দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে তা কবে নাগাদ নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলবে—এমন প্রশ্নের উত্তর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এখনো অনিশ্চিত।
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| সফরের তারিখ | ১ অক্টোবর |
| মূল স্থানসমূহ | পরশুরাম (মুহুরী প্রকল্প), ফুলগাজী (শ্রীপুর ও পাইলট বিদ্যালয়) |
| প্রকল্প অনুমোদিত ব্যয় | ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা |
| প্রধান স্থানীয় দাবি | ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, রেলপথ পুনরুদ্ধার |
সফর সফলভাবে সম্পন্ন হলে এটি জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে—তবে বাস্তব পরিবর্তনের জন্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ও সময়সীমা প্রকাশই মূল চাবিকাঠি হবে।
প্রসঙ্গত: সাক্ষাৎকার, নিরাপত্তা পরিদর্শন ও জেলা প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।