ফেনীতে জেলা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গরু চোর চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্যসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে তিনটি চোরাই গরুও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও সূত্র
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ অভিযান পরিচালনা করে ফেনী জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (সদর সার্কেল) দিকনির্দেশনায়। শুরু হয় গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিম চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে।
রামপুরের গরু চুরি ও সক্রিয় চক্রের গ্রেফতার
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক রাত ৩টা ৫০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে ফেনী পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর এলাকায় সৈয়দ সাইফউদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগীর গোয়ালঘর থেকে অজ্ঞাত কয়েকজন তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করলে ক্রমে চোরাই গরুগুলো উদ্ধার এবং চক্রের পাঁচজনকে আটক করা সম্ভব হয়।
“মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
গ্রেফতারকৃত পাঁচ সক্রিয় সদস্য — পরিচয় ও নিবাস
পুলিশ তথ্য অনুযায়ী, গরু চোর চক্রের পাঁচ জন গ্রেফতারকৃতের পরিচয় ও নিবাস নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো —
| নাম | বয়স | নিবাস / সংগীয় তথ্য |
|---|---|---|
| মো. তয়ব আলী | ৪০ | কক্সবাজার মহেশখালী থানার ছোট মহেশখালী (মৃত শামসুল আলমের ছেলে) |
| মো. বাবুল | ৩৫ | ভোলার দৌলতখান থানার নলগোড়া (মো. ইয়াসিনের ছেলে) |
| মো. মনির হোসেন | ৩৬ | ভোলার শশীভূষণ থানার কলেরহাট (মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে) |
| মো. ফারুক হোসেন | ৪৬ | রাঙামাটির নানিয়ারচর থানার ইসলামপুর (মৃত তাহের খাঁ ওরফে ওলি আহমদের ছেলে) |
| মো. নাসির | ৪৩ | চট্টগ্রামের রাউজান থানার সিকদাই (মো. শাহ আলমের ছেলে) |
পুলিশের মন্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফেনী জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গরু চোর চক্রের সক্রিয় সদস্যদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি এবং মাদক সম্পর্কিত মামলা সংশ্লিষ্টরাও রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের পাহারা ও আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
- অভিযানের লক্ষ্য ছিল গরু চুরি ও অন্যান্যে জড়িত চোরাচক্র ধরিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
- ফলাফল— তিনটি চোরাই গরু উদ্ধার এবং ১৪ জন গ্রেফতার, যার মধ্যে ৫ জন গরু চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।
- পুলিশের অঙ্গীকার— মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সদর থানার প্রতিটি মাদক স্পটে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরি ও চোরাপথে পশু পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশের এই ধরনের অভিযান জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি অপরাধ দমনে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিভাবক ও প্রাণী পালনকারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে এবং সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করলে আইনী সহায়তা বা পুলিশকে দ্রুত জানানোর জন্য পুলিশ সবসময় অনুরোধ করেছে।
এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট টিমের বিস্তারিত, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের ধারাসমূহ এবং মামলা নম্বর প্রকাশ করা হয়নি; আগামী দিনগুলোতে আদালত-প্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে আশা করা যাচ্ছে।
ফেনী থেকে রিপোর্টিং করছেন আপনার স্থানীয় সংবাদদাতা।