সরকার গঠনের পর প্রথমবার ফেনী সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত ১৭ সেপ্টেম্বর-এর সফর স্থগিত করে নতুন করে ১ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো প্রস্তুতিতে নেমেছে বলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও প্রশাসনের কাজ
জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কারণে সফর পিছিয়ে হলেও পরবর্তী সময়ে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সভা পরিচালনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সড়ক সংস্কার ও জনসভাস্থল সাজানোর কাজ ত্বরান্বিত করেছে।
- নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছে।
- অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুতি: পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ চলমান।
- সুবিধা ও পরিষেবা: সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক, পোর্টেবল টয়লেট ও অন্যান্য সার্বিক ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় দাবি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাদের উন্নয়ন চাওয়া-দাওয়াগুলো পুনরায় তুলে ধরছে। স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করার অনুরোধ করবেন বলে জানানো হয়েছে:
- ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা।
- ফেনী–বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালু করা।
- ফেনীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
- মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করার দাবি ও বিশেষভাবে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধ তোলা হবে।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু এবং জেলা যুবদের বিভিন্ন নেতারা এসব দাবি অনাড়ম্বরভাবে পরিবেশিত করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
সফরের প্রাক্কালে সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত এক প্রাক-পরিকল্পনার উদ্ধোধনও চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। এতে জেলার পানিসম্পদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে মুখ্য্য্য করে নেয়া হয়েছে।
| তারিখ/ঘটনা | বিষয়বস্তু | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১৭ সেপ্টেম্বর | প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত সফর | রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির কারণে স্থগিত |
| ১ অক্টোবর | নতুন নির্ধারিত ফেনী সফর | আনুষ্ঠানিকতা ও উদ্বোধন সম্ভাব্য |
| সম্প্রতি | ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্প | একনেকে অনুমোদিত ১,৫৪২ কোটি টাকা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন |
স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতির বিস্তার
ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার প্রশাসন ও বিএনপি অংশ-মত সংগঠনগুলো জেলা পর্যায়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, শ্রেণীভিত্তিক জনসভা এবং পথ-দ্বার কাজ সমন্বয় করে চলেছে। পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের মুহুরী নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল দ্রুতগতিতে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া জানান, অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিবেশ সাজানো, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, জরুরি মেডিক্যাল ব্যবস্থা এবং আগত অতিথিদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থাও রাখা হচ্ছে।
প্রকৃত নিরাপত্তা ও নাগরিক প্রভাব
সফরকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া থাকবে—এলে স্থানীয় কার্যক্রম ও যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাটে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করলেও জনসাধারণকে কিছু সময়সূচি ও পথ নির্দেশনা প্রদান করা হতে পারে।
নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণ বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কিত কোনো ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো আদেশ জারি হলে তা প্রশাসনের করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যাবে।
সফরের দিন ও সময় নিশ্চিত হওয়ার পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সংগঠনগুলো অতিরিক্ত নির্দেশনা জারি করবে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হচ্ছে—আবশ্যিক না হলে ওই দিন জনসমাগম এলাকায় যাওয়া এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে।
উল্লেখ্য, সফর সংক্রান্ত সব তথ্য জেলা প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার নিকট সমন্বিতভাবে প্রকাশিত হবে; আগাম সময়ে পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অবহিত করা হবে।