ঘটনার সারমর্ম
ফেনীর দাগনভুঞা উপজেলা সদরের আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাইস্কুলের সামনে বুধবার বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে দলের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারি হয়েছে। সংঘর্ষে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে আহতের সংখ্যা বেশ কয়েকজন অভিযোগমুলকভাবে বাড়তে থাকে।
আহত ও চিকিৎসা
স্থানীয় হাসপাতাল ও দলীয় সূত্র বলছে, ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও দুই জন গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হচ্ছে: দাগনভুঞা পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ইকবাল হোসেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ রাব্বি এবং সাংবাদিক শাখাওয়াত টিপু ও ফখরুল ইসলাম। তাদের মধ্যে ইকবালের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
- ঘটনার সময়: বুধবার বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটা
- স্থান: ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের দাগনভুঞা, আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাইস্কুল মিলনায়তন ও স্কুলের সামনের মহাসড়ক
- আহত: বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, দুই সাংবাদিকসহ মোট আনুমানিক ২৫ জন
ঘটনার সূত্র ও বিবরণ
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারী দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, দুপুরে বিএনপির উপজেলা ও পৌরসভা উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন সভাপতিত্ব করেন। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ।
সভার শেষের দিকে নেতাকর্মীরা মিলনায়তন থেকে বের হওয়ার সময় মহাসড়কের অপর পার্শে থাকা কিছু সমর্থক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে। সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে একজন সমর্থক পানির বোতল ও জুতা ছুঁড়ে মারেন। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন অভিযোগ করেছেন, সভা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে বের হওয়ার সময় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কাজী জামশেদুর রহমানসহ কয়েকজন তাঁর উপর হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালান।
প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তা
ঘটনার পর মূহুর্তেই স্থানীয় পুলিশ ও পরিচিত কিছু নেতা-মতামত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সকাল থেকেই পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবু বিকেলের সংঘর্ষ ঠেকানো যায়নি। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং টহল বাড়ানো হয়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সময় | বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে |
| স্থান | আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাইস্কুল ও তৎসংলগ্ন মহাসড়ক, দাগনভুঞা |
| আহত | আনুমানিক ২৫ জন (নির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে) |
পটভূমি ও প্রভাব
দাগনভুঞা উপজেলা সদরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। সূত্রগুলো বলছে, দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিরোধ এবং বহিষ্কৃত নেতাদের অনুগামীদের সঙ্গে বর্তমান অঙ্গনের সমর্থকদের মধ্যে পূর্ব থেকেই উত্তেজনা ছিল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ওই আলোচনা সভা শেষে ছোটোখাটো বাকবিতণ্ডাই ধরা না দিলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতায় পরিণত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন জীবনে এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে; ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মার্কেট এলাকা পুলিশি তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত বলে জানায় থানা পুলিশ, তবে তদন্ত ও আহতদের চিকিৎসাসহ ঘটনার দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানা গেছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী কী পদক্ষেপ অবলম্বন করা হবে এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হলে আরও বিস্তারিত তথ্য পরিবেশন করা হবে।
ফেনী থেকে প্রতিবেদক, WE NEWS