চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার রুনা টাওয়ার নামের একটি বহুতল ভবনের সামনে সোমবার গভীর রাতে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে যখন ভবনটি মালিক এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর পরিবারের ওপর অপরিচিতদের থেকে চাঁদা দাবির ভয়েস বার্তা পেয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরিবেশ ও প্রাথমিক অভিযোগ
ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, তাঁর দুই ছেলে প্রবাসে ব্যবসা করে। ইউসুফের ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে দুপুরের দিকে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। মেসেজে পরিবারের সদস্যদের কার্যকলাপ, কোথায় বসবাস করে এমন তথ্য জিজ্ঞাসা করা হয় এবং এক ঘণ্টার মধ্যে পঞ্চাশ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। না দিলে পরিবারের লোকজনকে মারার হুমকিও দেওয়া হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই যুবক প্যান্ট-শার্ট পরা অবস্থায় ভবনের গেটে এসে নিরাপত্তারক্ষীকে ভিতরে রেখে দাঁড়াতে বলেন। নিরাপত্তারক্ষী মো. আলমগীর জানায়, এ সময় এলাকায় পড়ন্ত বেলা বিদ্যুতের সংযোগ ছিল না। দুই যুবক গেটের দিকে দাড়িয়েই হঠাৎ পরপর দুইটি গুলি ছোড়ে এবং ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যায়। গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ বের হয়ে আসে এবং দোকানপাট থেকে কেউ দুজনকে দৌড়ে পালাতে দেখেন।
পুলিশের তল্লাশি ও বক্তব্য
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন,
“হামজারবাগ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।”
তিনি জানান, ঘটনার প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, দুই যুবক প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে কথা বলে এবং পরে গুলি করে চলে যায়; বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং চাঁদা দাবির সঙ্গে ঘটনার সরাসরি যোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
পূর্বের প্রেক্ষাপট ও শহরের উদ্বেগ
এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী অভিযানের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। সূত্র বলছে, গত মাসেও নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা না পেয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছিল। এসব ঘটনার পর নগরে দমনের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- সময়: সোম(বার) রাত—ঘটনার সময় প্রাথমিকভাবে সাড়ে ১১টা হিসেবে উল্লেখ আছে।
- চাহিদা: এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি।
- প্রক্রিয়া: ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে হুমকি; রাতের আঁধারে ভবনের গেটে গুলি।
নাগরিক প্রভাব ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ
এমন ঘটনা жилবন্দর এলাকায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে। রাতের অন্ধকার ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট মিলে অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়িয়ে দেয় বলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন। ভবনগুলোতে থাকা পরিবারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন ও থানা-মহল্লা পর্যায়ে আন্তঃসম্পর্ক বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
পুলিশ কী করছে — অনুসন্ধান ও পরামর্শ
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির আলামত সংগ্রহ করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অংশ নিয়েছে স্থানীয় থানা ও সিএমপি উত্তর বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট। পুলিশ প্রতারণা-চাঁদাবাজি রোধে নাগরিকের সতর্কতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আপাতত সন্দেহজনক ফোন নম্বর ও বার্তা তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছে।
| আইটেম | বিস্তারিত |
|---|---|
| স্থান | হামজারবাগ, রুনা টাওয়ার, পাঁচলাইশ থানা |
| সময় | রাত প্রায় ১১টা (১০ আগস্ট) |
| ধরন | চাঁদা দাবি ও গুলিবর্ষণ |
| চাহিদার পরিমাণ | ৫০,০০,০০০ টাকা (এক ঘণ্টার মধ্যে দাবী) |
পরবর্তী ধাপ ও স্থানীয় প্রত্যাশা
স্থানীয়রা চান দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও কড়া হস্তে মোকাবিলা করা হোক। তাছাড়া ভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার ও সহায়তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, যারা এ ধরনের চাঁদা-হুমকি দেয় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তদন্তে যারা জড়িত তাদের বের করে আনাই অগ্রাধিকার।
চট্টগ্রামের ঘটনাগুলো নাগরিক নিরাপত্তা, ব্যবসায়িক অভিব্যক্তি এবং জনজীবনের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে—এই উদ্বেগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা মনোযোগের দাবি রাখে।
রিপোর্ট করেছেন নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, WE NEWS