পাবনার সুজানগর এলাকায় গত এক মাস যাবত ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বলছেন, দিনের পাশাপাশি রাতেও নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ বন্ধ বা অসম্পূর্ণ রয়ে যাচ্ছে।
দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রতিকূলতা
পাটগ্রামীয় প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সুজানগর পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন মিলিয়ে সরবরাহ ব্যর্থতার পর্যায় দ্রুত বাড়ছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কখনও কখনও দিনে কম সময়ে রাতের তুলনায় বেশি লোডশেডিং হয়; এমনকি নির্দিষ্ট সময়ে এক থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে একাধিকবার বিদ্যুৎ কাটা পড়ছে—যেখানে মাঝে মাঝে প্রতি ঘন্টায় ২-৩ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়।
অঞ্চলের সিএসআর ও ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা বলছেন, বিদ্যুৎহীনতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কাঁচামালের অপচয় বাড়ছে। ব্যাংক, বীমা অফিস ও অফিস আদালতের নিয়মিত কাজেও বিঘ্ন হচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকরাও জানান, অনবরত লোডশেডিংয়ের ফলে রিপোর্টিং ও তথ্য সংরক্ষণ কাজে সমস্যা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব
শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, সারাদিনের লেখাপড়ার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সময়টিই উপযুক্ত। কিন্তু এই সময়কালে বিদ্যুৎ না থাকায় বইচর্চা ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসে পড়াশোনাও চালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
“চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। সেকারণে লোডশেডিং হচ্ছে,”
এ বিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেছেন, “চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। সেকারণে লোডশেডিং হচ্ছে।” তিনি অতিরিক্ত সরবরাহ না হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে না বলে আভাস দিয়েছেন।
- অর্থনৈতিক প্রভাব: ক্ষুদ্র শিল্প ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ থেমে যাচ্ছে, যা আয়ের ক্ষতি ও কর্মঘণ্টা কমায়।
- শিক্ষা: সন্ধ্যায় বিদ্যুতের অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- সেবা ব্যাহত: ব্যাংক, অফিস-আদালত ও স্বাস্থ্য সেবায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে—আদালতের কার্যক্রম থমকে পড়ছে বলে অভিযোগ আছে।
অঞ্চলের দাবি ও সম্ভাব্য সমাধান
ভুক্তভোগীরা দ্রুত টেকনিক্যাল সমাধান ও অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছেন। তারা মনে করেন, পর্যাপ্ত পজিশনাল জেনারেটর ব্যবস্থা, স্থানীয় সাবস্টেশনের আপগ্রেডেশন এবং বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি প্রতিহত করা সম্ভব।
| অবস্থা | প্রভাব |
|---|---|
| সর্বত্র সীমাহীন লোডশেডিং | শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা |
| দিন-রাত অসম নিয়মানুবর্তিতা | প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ও সেবা ব্যাহত |
| বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা বেশি | আঞ্চলিক অফিস কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন |
স্থানীয়রা অনুরোধ করছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যবস্থা নিক যাতে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না হয়। প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না হলে সুজানগরের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিতে পারে—বিশেষত যখন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সিজন ও ব্যবসায়িক মৌসুম চলমান।
এই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্যভিত্তি স্থানীয় গ্রাহক, শিক্ষার্থী ও পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র ডিজিএম মো. মোতাছিম বিল্লাহর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।