নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুরে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ-প্রতিবাদে দুই উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং আলাদা আলাদা স্থানে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং ভিডিও সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
কী ঘটেছে — সময় ও ঘটনাচক্র
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়ায় মিছিলটি বের হয় সকাল থেকে, আর লালপুরে বিক্ষোভ শুরু হয় বেলা প্রায় ১১টা থেকে। মঙ্গলবার নয়—ঘটনাটি শনিবার/বুধবার (রিপোর্টে উল্লেখিত দিন অনুযায়ী) দুপুরে সংগঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদ মূল ভবনে গিয়ে দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ইউএনওর কক্ষে অবস্থান নেন। উত্তেজনা ছড়ালে দরজায় লাথি মারাসহ ফুলের টব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যথাক্রমে বাগাতিপাড়া ও লালপুর ইউএনও—দেবাশীষ বসাক ও বরকত উল্লাহ—ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর নিয়োগে দলের অনুগত কর্মীদের সুযোগ করে দিয়েছেন এবং ছাত্রদলের অনেক প্রার্থীর নাম বাদ পড়ে গেছে। ফলে তারা নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা ও নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকরা বলছেন, বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের দরজা ও জানালায় আঘাত করে এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর ধাক্কাধাক্কি ও লাঞ্ছনার চেষ্টা চালায়; এক পর্যায়ে কিছু সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
“ইউএনও এই নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। পরীক্ষা দেয়নি এমন ব্যক্তিকে পাস করিয়েছেন। আমরা এই ফলাফল মানি না।”
এই বক্তব্যটি ছাত্রদল নেতা সোহেল রানা প্রতিবেদনের সময়ে দিয়েছেন, যিনি বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বলে উল্লেখ আছে।
সাংবাদিকদের ওপর আচরণ ও মিডিয়ার স্বাধীনতায় উদ্বেগ
রিপোর্টে নাম উল্লেখ করা এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ওই সময় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং লাইভ সম্প্রচারের চেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা হয়। এই ঘটনার কয়েকটি আলাদা ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে—বাগাতিপাড়ায় সাংবাদিক ফজলুর রহমানের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়; লালপুরে এনটিভির একজন প্রতিবেদকের সঙ্গে বাধা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে; এবং স্টার নিউজের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসান লাইভ করার সময় বাধাগ্রস্ত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন।
- বিক্ষোভকারীদের দাবি: নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি
- অভিযোগপ্রাপ্ত কর্মকাণ্ড: দরজায় লাথি, ফুলের টব ভাঙচুর, সাংবাদিকদের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
- প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: ঘটনার পরে তদন্তের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া ইউএনওর কল ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে
উপজেলা ও প্রশাসনের তথ্য
বাগাতিপাড়া ও লালপুর—দুইটিতেই ইউএনও কার্যালয় অবরুদ্ধ ছিল; পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার চেষ্টা করেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। বাগাতিপাড়া ইউএনও হিসেবে নাম হিসেবে রিপোর্টে দেবাশীষ বসাক ও লালপুরের ইউএনওর নাম হিসেবে বরকত উল্লাহ উল্লিখিত রয়েছে।
| উপজেলা | অভিযোগের ধরণ | উল্লেখিত ইউএনও |
|---|---|---|
| বাগাতিপাড়া | নিয়োগে অনিয়ম, কার্যালয় অবরুদ্ধ, ভাঙচুর, সাংবাদিক ফোন ছিনিয়ে নেওয়া | দেবাশীষ বসাক |
| লালপুর | কার্যালয় অবরুদ্ধ, লাইভ প্রচারণায় বাধা, সাংবাদিক লাঞ্ছনা | বরকত উল্লাহ |
এই ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা ও সম্ভাব্য পরিণতি
স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সংরক্ষণ এই ঘটনার মূল প্রাসঙ্গিকতা। সরকারি কর্মপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ যথাযথ তদন্ত না হলে তা স্থানীয় প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও নাগরিকদের সহযোগিতায় হ্রাস ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে বাধা ও হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থে রিপোর্টিংয়ে বিঘ্ন ঘটায়।
ঘটনাস্থলে থাকা কিংবা এই ধরনের বিক্ষোভের বিষয়ে সরকারি দফতর, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সংবাদমাধ্যমে স্বচ্ছ বিবৃতি প্রদান করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। রিপোর্ট লেখার সময় বাগাতিপাড়া ইউএনওকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।
তারতম্যপূর্ণ তদন্ত ও নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ যাচাই না হলে স্থানীয় শান্তি ফেরানো ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।