বাগাতিপাড়ায় কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বুধবার নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েক শ নেতাকর্মী সকাল থেকে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে ফল বাতিল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি করেন। একই অভিযোগকে কেন্দ্র করে লালপুরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনার পটভূমি ও বিক্ষোভকারীদের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি প্রকাশিত ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে অনিয়ম রয়েছে এবং অবৈধভাবে কার্যকর দলের অনুকূল হওয়া ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাগাতিপাড়ায় যাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি, তাঁদের একটি অংশ প্রশাসনের কাছে ফল বাতিল করে পুনঃপরীক্ষার দাবি জানায়। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন উপজেলার সাবেক ছাত্রদল আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে আগত নেতাকর্মীরা।
কার্যালয়ে ভাঙচুর ও সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ
সংক্রমণচিহ্নিত না হলেও বিক্ষোভجراء একটি গ্রুপ ইউএনওর কার্যালয়ের কক্ষের দরজা ও জানালায় লাথি মারেন এবং সজ্জার ফুলের টব ভেঙে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। বিক্ষোভের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকরাও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে বলা হয়েছে। নাটোর জেলা পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, উপজেলাগুলোতে হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের নথিভুক্ত হয়নি।
“স্বচ্ছতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছে, অনিয়ম হয়েছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই বক্তব্যটি ইউএনও অফফিসের পক্ষ থেকে বরকত উল্লাহ বলেছেন। এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে প্রশাসন পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
অভিযোগ ও প্রশাসনের অবস্থান
বাগাতিপাড়া উপজেলা থেকে শুরু করে গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জের ইউএনও কার্যালয়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ বলা হয়েছে—নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি। গাইবান্ধায় তা তদন্তের দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, আর সুন্দরগঞ্জে কার্যালয়ের তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে খবরে উল্লেখ আছে। তবে নাটোর জেলা প্রশাসন বলছে, বর্তমানে যে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে তা অনৈতিক নয় এবং দ্রুত তদন্ত করে ফলাফল প্রদর্শন করা হবে।
- স্থান: বাগাতিপাড়া ও লালপুর (নাটোর জেলা)
- সংগ্রামকারীরা: স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা
- দাবি: ফল বাতিল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার
- প্রশাসন: অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেবে
স্থানীয় সম্প্রদায় ও ফলাফল বহির্ভূত প্রভাব
স্থানীয় কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাগাতিপাড়ায় পদগুলোর ফল প্রকাশ করায় উত্তীর্ণ না হওয়া বহু প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা গৃহীত সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নিয়োগ নিয়ে এমন ধরনের ঘটনাগুলো স্থানীয় প্রশাসনের গণহিত-উপযোগিতার প্রতি আস্থা ক্ষয় করতে পারে—বিশেষত যেখানে সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ফলে প্রশাসনিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটেছে এবং তথ্য সংগ্রহকারি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
| ইউনিয়ন/উপজেলা | ঘটনার প্রকৃতি |
|---|---|
| বাগাতিপাড়া | ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও, ভাঙচুর, ফল বাতিলের দাবি |
| লালপুর | বিক্ষোভ, ইউএনও প্রত্যাহারের দাবি |
| গাইবান্ধা (ফুলছড়ি) | সদৃশ অভিযোগ—ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর |
| সুন্দরগঞ্জ | কার্যালয়ে তালা ঝুলানো হয়েছে—সংক্রান্ত প্রতিবেদন আছে |
স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণ ও অভিযোগের মাত্রা দেখে প্রশাসন যেন দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে বিষয়টি সমাধান করে—এটাই সাংগঠনিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন। নাটোরের সাধারণ নাগরিকরাও চান, নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন ন্যায়সংগত ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের জবাবদিহিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন।