নারায়াণগঞ্জের গণমাধ্যম অঙ্গনের একজন পরিচিত মুখ, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার এবং নারায়াণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও নারায়াণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য হাফিজুর রহমান মিন্টু মারা গেছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সোয়া ৫টার দিকে তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
সংক্ষিপ্ত জীবনী ও শেষদিন
দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ থাকা মিন্টু সম্প্রতি নারায়াণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু তিনি হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে নিজের ইচ্ছায় গ্রামেই থাকতে চেয়েছিলেন; পরে বোনের সহায়তায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নেওয়া হয়, সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর সংবাদটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া ফেলেছে। নারায়াণগঞ্জ প্রেস ক্লাব এবং নারায়াণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সহকর্মীরা তার প্রয়াণে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া
ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শোকবার্তায় বলা হয়েছে, মিন্টু ছিলেন মিশুক ও আদর্শ সাংবাদিক, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক রাখতে সক্ষম হন এবং অদক্ষতার মধ্যেও কর্তব্য পালন করে গেছেন।
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
প্রতিবিন্ন সময়ে নারায়াণগঞ্জের সংবাদ অঙ্গনে তার অবদান ছিল লক্ষণীয়। ২০২২ সালে তৃণমূল সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নারায়াণগঞ্জ জেলা থেকে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছিলেন; সেই সম্মাননায় একটি স্মারক, সনদ ও এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছিল।
পেশাগত জীবন ও সম্মাননা
হাফিজুর রহমান মিন্টু দৈনিক ইনকিলাবে দীর্ঘদিন স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতার যে বিষয়গুলোতে তিনি খ্যাত ছিলেন তা ছিল স্তরভিত্তিক সংবাদ সংগ্রহ ও সহকর্মীদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা। নানা সময়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে তার সংবাদ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি অর্জন করেছিলেন।
তার প্রয়াণে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণীয় নয়—এমনটাই শোকবার্তায় বলা হয়েছে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, অসুস্থতার মধ্যেও তিনি কাজে এগিয়ে এসেছেন এবং সংবাদ সংগ্রহে অনুরুদ্ধ ছিলেন।
পরিবার ও শেষকৃত্য সম্পর্কিত তথ্য
মরহুম চিরকুমার ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছোট ভাই মিলন। পল্লীভিত্তিক জীবন ও পেশাগত দায়বদ্ধতার কারণে শেষ সময়ে তিনি গ্রামের বাড়িতেই জীবনাবসান করলেন। শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সহকর্মীরা দাঁড়িয়েছেন।
- নাম: হাফিজুর রহমান মিন্টু
- পেশা: স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনকিলাব
- সংগঠন: নারায়াণগঞ্জ প্রেস ক্লাব (সিনিয়র সদস্য), নারায়াণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়ন
- মৃত্যু: ১৮ সেপ্টেম্বর, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ (গ্রামের বাড়ি)
- বয়স: ৭০ বছর
স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিফলন
নারায়াণগঞ্জের সংবাদপত্র ও জনপ্রতিনিধি পর্যায়ে সংবাদ পরিবেশনের ধারায় মিন্টুর মতো প্রবীণ সাংবাদিকরা অভিজ্ঞতার অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসেন। তাদের মৃত্যু স্থানীয় গণমাধ্যমের অভিজ্ঞতা-ভাণ্ডার ক্ষয় করে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনার ঘাটতি তৈরি করে।
শোকাহত সহকর্মীরা বলেন, তার মতো মিশুক স্বভাবের সাংবাদিক কম জন্মে; ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পেশাগত নিষ্ঠার মেলবন্ধন ছিল তার উপহার। আজ সেই ধারার একজন অভিজ্ঞ মুখ আর নেই।
নির্ঘাত তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সমবেদনা ও দোয়া অব্যাহত থাকবে। ফতুল্লা প্রেস ক্লাব ও নারায়াণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়ন মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে এবং সকলের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | হাফিজুর রহমান মিন্টু |
| পেশা | স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনকিলাব |
| মৃত্যু | ১৮ সেপ্টেম্বর, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ |
| বয়স | ৭০ বছর |
স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনের এই প্রিয় মুখের চলে যাওয়ায় নারায়াণগঞ্জে শোকের স্লোগান চলছে; তার কাজ ও নৈপুণ্য স্মরণীয় থাকবে।