নারায়াণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ প্রস্তুতির সময় পুলিশ সদ্য একাদশ সেপ্টেম্বরের অনুচ্ছেদে অভিযান চালিয়ে মোট ১৮ জন নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের কর্মীকে আটক করেছে। পুলিশের অভিযানে সকালের পর্যায়ে ৪ জন ও দুপুরে ১৪ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া মিছিল তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করতে জেলার বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি চালানো হলে কিছু সময় আগে আরও কয়েকজন ও সামগ্রী জব্দের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযানের সময় ও আটককারীদের পরিচয়
রূপগঞ্জ সার্কেলে শুক্রবার দুপুর সোয়া একটায় মিছিলে অংশগ্রহণ বা মিছিল প্রস্তুতির সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করে। রূপগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী ইসলাম জানান, আটকরা সকলেই ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ও সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতৃত্বে মিছিল বের করার চেষ্টা করছিল।
“আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে মিছিলের প্রস্তুতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের আটক করা হয়েছে।” — মো. মেহেদী ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (রূপগঞ্জ সার্কেল)
তদন্তে এগিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছে, ফতুল্লার ইসদাইর এলাকা থেকে জেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের সাবেক সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন (রুপি) কে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে মাসদাইরের সরকারবিরোধী মিছিল তৎপরতার সময় চার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে; তাদের নামসূত্র ও সংগঠনে অবস্থান স্থানীয় থানার ব্যাখ্যায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
চেকপোস্টে তল্লাশি ও জব্দ তালিকা
জেলার ৩শ ফিট এলাকায় পুলিশের স্থাপন করা চেকপোস্টে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালানো হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ অভিযানে রাতভর ও মাঝরাতে কয়েকটি আলাদা ঘটনা ঘটেছে:
- চেকপোস্টে রাতভর অভিযানে তিন বোতল হুইস্কি ও একটি সামুরাইসহ ছয়জনকে আটক করা হয়।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার কারণে ১১টি গাড়ির মালিককে ট্রাফিক আইনে জরিমানা করা হয়।
| ঘটনা | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| মিছিল প্রস্তুতিতে আটক | ১৮ জন (সকালে ৪, দুপুরে ১৪) |
| চেকপোস্টে আটক (রাত) | ৬ জন (হুইস্কি ও সামুরাইসহ) |
| ট্রাফিক জরিমানা | ১১টি যানবাহন |
পুলিশি নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ড
নারায়াণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের অধীনে চেকপোস্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মো. মেহেদী ইসলাম, রূপগঞ্জ থানার ওসি সালাহউদ্দিন, ডিবির ওসি ও জেলা পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা। পুলিশ বলছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরণের তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী মিছিল ও সমাবেশের খবর পাওয়া পর জেলা পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। ৩শ ফিট এলাকায় চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্তটা স্থানীয়ভাবে চলমান নেতিবাচক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেওয়া একটি ব্যবস্থা বলে পুলিশের ব্যাখ্যা। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অতিরিক্ত তল্লাশির কারণে চলাচলে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে; অপরদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জনজীবন স্থিতিশীল থাকবে।
কী করতে পারেন স্থানীয় নাগরিকরা
- যাতায়াতের সময় সরকারি চেকপোস্টে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।
- সমিতি বা সংগঠনের সমাবেশ করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বা থানায় নোটিশ জানান।
- অভিযানকালীন সময়ে পুলিশের নির্দেশ মেনে চলুন এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে ৯৯৯/স্থানীয় থানায় খবর দিন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনমত তাদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চালানো হবে। এখনও পর্যন্ত আটক রাখা সকলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চলছে) বা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন বলেছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।