নড়াইল: পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় মাদকবিরোধী শুদ্ধি ও অপরাধ দমন নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সভাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষেই অনুষ্ঠিত হয়; সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারা ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান
ডিআইজি সভায় জোর দিয়ে বলেন যে পুলিশের মাদকবিরোধী নীতি «জিরো টলার্যান্স» থেকে সরে আসবে না এবং মাদক কারবারিরা কোনো ছাড় পাবে না। তার মন্তব্য অনুসারে, মাদকের মোকাবিলায় শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে টহল কার্যক্রম এবং বিট পুলিশিং বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্যের মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"পুলিশের কোনো সদস্য মাদককারবারের সাথে জড়িত থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া মাদকাসক্ত শনাক্তে তাদের 'ডোপ টেস্ট' করা হবে।"
টহল ও বিট পুলিশিং জোরদার
সভায় ডিআইজি বলেন যে মব সৃষ্টি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও দস্যুতা প্রতিরোধে পেট্রোলিং ও বিট পুলিশিংয়ের কার্যক্রম জোরদার করা হবে। শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যক্রম নিয়মিত ও কড়াকড়ি হওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ জনসাধারণের সহযোগিতাও চেয়েছেন।
জেলা পুলিশের বাস্তব উদ্যোগ
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান যে চলতি বছরে খুলনা বিভাগের দশ জেলায় পুলিশকে সম্পৃক্ত রেখে ৫০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা পরিবেশ রক্ষা ও সমাজে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিতি
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, কালিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিন হালদার, সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোহসিন এবং নড়াইল প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
| নাম | পদবী/প্রাতিষ্ঠান |
|---|---|
| মো. মোস্তাফিজুর রহমান | খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি |
| মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার | নড়াইল পুলিশ সুপার (সভাপতি) |
| নূর-ই-আলম সিদ্দিকী | অতিরিক্ত পুলিশ সুপার |
| রবিন হালদার | কালিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার |
| মোহাম্মদ মোহসিন | সহকারী পুলিশ সুপার |
স্থানীয় প্রভাব ও পর্যালোচনা
ডিআইজির কঠোর ভাষণ স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মাদকাসক্ততা বা কারবারের সঙ্গে জড়িততার অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট করার ঘোষণা স্থানীয় জনগণের কাছে নিশ্চয়তা দেয় যে বাহ্যিক অপরাধ দমন প্রচেষ্টার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাও বজায় রাখা হবে।
এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবে কার্যকর করতে হলে ন্যায়সঙ্গত পরীক্ষণ নীতি, তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান ও যথাযথ আপিল-বিশ্লেষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে—যা পুলিশ প্রশাসনের জন্য পাঠ্য ও প্রয়োগগত দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
কী করবে পুলিশ—সংক্ষেপে
- মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা এবং স্থানীয় মাদককারবার দমন করা।
- পেট্রোলিং ও বিট পুলিশিং জোরদার করে সাধারণ অপরাধ দমন।
- পুলিশ সদস্যদের ‘ডোপ টেস্ট’ করে মাদকাসক্ততা শনাক্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ।
- পরিবেশ উদ্যোগ হিসেবে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫০ হাজার গাছ রোপণ।
সভায় আলোচ্য বিষয়গুলোর ধারাবাহিকতা এবং এ সংক্রান্ত বাস্তবায়ন কবে ও কীভাবে হবে সে সম্পর্কে জেলার সাধারণ জনগণ ও সংবাদকর্মীরা আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। পুলিশ ও রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ যেন সময়মত এবং স্বচ্ছভাবে অগ্রগতি জানায়—এটাই স্থানীয় শ্রোতাপ্রাপ্ত অংশগ্রহণ ও আস্থার প্রশ্ন।